আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রেসিডেন্টসহ দুই কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আখানে ও আদালতের জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার এ নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধ আরও গভীর হওয়ার মধ্যে নেওয়া হলো এ পদক্ষেপ।
জাপানের নাগরিক তোমোকো আখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রেসিডেন্ট আর সেনেগালের আবদুলায়ে সেয়ে আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক কৌঁসুলি। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হেগভিত্তিক আদালতটিকে ‘প্রয়োজনে ইটের পর ইট খুলে’ পদ্ধতিগতভাবে অকার্যকর করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দেওয়া হলো নতুন এই নিষেধাজ্ঞা।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও মারাত্মকভাবে রাজনীতিকীকৃত অতিরাষ্ট্রীয় আদালত, যা বিদ্বেষপূর্ণভাবে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং এখতিয়ার অতিক্রম করেছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর আদালতটির আক্রমণ আমরা সহ্য করব না।’
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের আওতায় দেওয়া হয়েছে নতুন নিষেধাজ্ঞা। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ‘অবৈধ ও ভিত্তিহীন পদক্ষেপের’ প্রতিক্রিয়ায় ঘোষণা করা হয়েছিল জাতীয় জরুরি অবস্থা।
ওই আদালতের জারি করা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিন বিচারকের একটি প্যানেল রায় দেয়, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের সময় ‘যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার’ এবং অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য দায় রয়েছে তাদের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ভিত্তি রোম সংবিধির সদস্য নয়। ফলে দেশ দুটি আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে ট্রাম্প প্রশাসন। যৌন অসদাচরণের অভিযোগের মধ্যে গত মাসে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপরও দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। তার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বছর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। সংস্থাটিতে ফিলিস্তিনকে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করে নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত।
এদিকে, মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ চারটি অধিকার সংগঠন চলতি মাসের শুরুতে মামলা করেছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা।







