যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বাসের অভিযোগ ইরানের
- কাস্পিয়ান সাগরে হামলার জন্য জেলেনস্কিকে দায়ী করলেন বাঘাই

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও অতীতের অভিজ্ঞতায় বারবার আলোচনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে জানিয়েছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে পাকিস্তান ও কাতারসহ কয়েকটি দেশ। তবে হামলার মুখে ইরানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিতের বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের অধীনে ইরান ৩০ দিনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষ্য, কয়েকটি জাহাজে হামলার অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত এক বছরে এটি তৃতীয়বার, যখন চলমান আলোচনার মধ্যেই হামলা চালিয়ে ইরানের কূটনৈতিক উদ্যোগকে ভণ্ডুল করা হয়েছে।
বাঘাই আরও দাবি করেন, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরাসরি দায়ী করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। হামলায় এক নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন।
আরাগচি মন্তব্য করেন, এটি জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ইসরায়েলের স্বার্থে ইউরোপকে যুদ্ধে জড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কিয়েভ যা করেছে, তার জবাব না দিয়ে থাকা সম্ভব নয়।’
তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ইরানের অবস্থান তাদের কাছে স্পষ্ট করেছেন।
এর আগে কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলার কথা নিশ্চিত করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এই হামলা। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাও জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজে চালানো হয়েছে অভিযান।




