আলজাজিরাকে এরদোয়ান
সংকটে প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে যাবে না তুরস্ক

আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি : আলজাজিরা
ইরান, সিরিয়া, গাজা, লেবানন, লিবিয়া, সুদানসহ যুদ্ধবিধ্বস্থ অঞ্চল ও দেশগুলোর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক সংকটে আঙ্কারা প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে যাবে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান আরও বলেছেন, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে। তিনি চুক্তিটিকে আরও সদস্যের জন্য উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশ বাইরের হামলার শিকার হলে অন্য দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেবে। মিসরের অংশগ্রহণও চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর একটি বলে জানিয়েছেন তিনি।
‘এই চুক্তি বিশ্বের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে,’ বলেছেন এরদোয়ান।
গত শুক্রবার পবিত্র মক্কা নগরীতে এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে সই করেন। এতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা এই ব্যবস্থাকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটিকে ন্যাটোর সমতুল্য বা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে জোট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান হরমুজ প্রণালি, সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা আঙ্কারার অগ্রাধিকার। প্রণালিটি বন্ধ থাকায় কারও স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় কাতারের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি।
সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের প্রসঙ্গ তুলে এরদোয়ান বলেছেন, আঞ্চলিক সংকটে তুরস্ক প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে যাবে না। সিরিয়ায় স্থিতিশীলতার জন্য আঙ্কারা সব ধরনের সহযোগিতা করবে এবং দেশটি সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। সিরিয়ার কুর্দিরাও শান্তি ও স্থিতিশীলতার অংশীদার হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গাজা প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেছেন, তুরস্ক গাজাকে একা ছেড়ে যেতে পারে না এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করবে। তার দাবি, হামাস আন্তরিকভাবে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করছে, অথচ ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা তুরস্কের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ বলেও জানিয়েছেন এরদোয়ান। সম্প্রতি তুরস্ক সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সুদানের প্রতিও তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন এরদোয়ান। লিবিয়ার সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্কও স্থিতিশীল এবং তুরস্ক দেশটিকে পরিত্যাগ করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের সদস্যপদ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন এরদোয়ান। তার মতে, ইইউ তুরস্ককে সদস্য করতে আগ্রহী নয়। এখন সদস্যপদ আঙ্কারার অগ্রাধিকারও নয়। এর ফলে ইউরোপই ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়েও ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এরদোয়ান। ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এস-৪০০ ব্যবস্থার কারণে এফ-৩৫-এর প্রযুক্তি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গত মাসে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, এস-৪০০ কেনার কারণে তুরস্কের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে তার প্রশাসন এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে তুরস্কের ফেরার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তবে মার্কিন কংগ্রেসে এ নিয়ে এখনও বিরোধিতা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২০ সালের একটি আইন অনুযায়ী, তুরস্কের কাছে এস-৪০০ ব্যবস্থা থাকলে দেশটিকে এফ-৩৫ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা






