যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের পর লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি তিন সপ্তাহের জন্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে মার্কিন মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েহিয়েল লাইটার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াওয়াদ দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসেন।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। জানান, ‘বৈঠক খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে!’ লেবাননকে হিজবুল্লাহর হাত থেকে রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র, আশ্বস্ত করেন তিনি।
তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমি অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিবি নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছি। এই অত্যন্ত ঐতিহাসিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করা আমার জন্য বড় সম্মানের বিষয় ছিল!’
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে আলোচনার পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুপক্ষ। রবিবার এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই নতুন করে মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হলো দুপক্ষ। তবে আলোচনায় রাখা হয়নি সংঘাতের অন্যতম পক্ষ হিজবুল্লাহকে।
লেবাননে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তবে বৃহস্পতিবারও দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ছিল না তাদের প্রতিনিধি। ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধের অধিকার’ রয়েছে তাদের।
হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, তারা যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে চান, তবে তা ‘পূর্ণাঙ্গভাবে মানতে হবে ইসরায়েলকে’। এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের সঙ্গে লেবানন সরকারের সরাসরি আলোচনার বিষয়ে গোষ্ঠীটির আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও লেবাননে থামেনি ইসরায়েলি আগ্রাসন। গত সপ্তাহে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর বুধবার সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন ছিল লেবাননের জন্য। বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতির আলোচনার একদিন আগেই ভয়াবহ হামলা চালিয়ে সাংবাদিকসহ পাঁচজনকে হত্যা করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। নিহত ওই সাংবাদিকের নাম আমাল খালিল। তিনি কাজ করতেন আল-আখবার সংবাদপত্রে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, বুধবার আত-তাইরি গ্রামে ফটোগ্রাফার জেইনাব ফারাজকে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের কাজ করছিলেন সাংবাদিক আমাল খালিল। আচমকা তাদের সামনের গাড়িতে হামলা চালায় আইডিএফ। এতে নিহত হন গাড়িতে থাকা দুজন। ফারাজ ও খালিল দৌড়ে আশ্রয় নেন পাশের একটি বাড়িতে। পরে সেই বাড়িতেও বিমান হামলা চালায় আইডিএফ।
লেবাননের সাংবাদিক ইউনিয়নের পরিচালক এলসি মুফাররেজ জানিয়েছিলনে, ফারাজকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছেন উদ্ধারকারীরা। আঘাত লেগেছে তার মাথায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, এক ঊর্ধ্বতন লেবানিজ সামরিক কর্মকর্তা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মতে, খলিলকে উদ্ধার করতে এলে ইসরায়েলর বাধার মুখে পড়েন উদ্ধারকারীরা। তাদের সামনে চালানো হয় সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি। পরে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করে সাংবাদিক খলিলের মরদেহ। হামলার প্রায় চার ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। ততক্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন সাংবাদিক আমাল খালিল।






