ইরান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে সাগরে সাগরে
- ১৩ দিন পর ইরানে হামলা বন্ধ
- ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানে বেশি আগ্রহী
- মধ্যপ্রাচ্যে হামলার খবর পাওয়া যায়নি
- কাস্পিয়ান সাগরে জাহাজে হামলায় নাবিক নিহত
- জাহাজে হামলায় ইউক্রেনকে দায়ী করেছে তেহরান
- সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা
- হুথি নিয়ন্ত্রিত প্রদেশে সৌদি জোটের হামলা

লোহিত সাগরে মালবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ দেখা যাচ্ছে। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ দিন পর হামলা বন্ধ রাখলেও ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সংঘাত নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। লোহিত সাগরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং কাস্পিয়ান সাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এ হামলার জন্য ইউক্রেনকে ইরানের দায়ী করার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ আগের মতোই বহাল রয়েছে। তবে টানা ১৩ রাতের বিমান হামলা হঠাৎ কেন বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সময়ে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলার খবর দেয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেন। তবে আলোচনায় না এলে কী পরিণতি হতে পারে, সেটিও ইরানকে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া, সামরিক অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়া, উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্বেগ এবং জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাবের আশঙ্কায় আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প।
এদিকে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং রয়টার্স যাচাই করা ভিডিওতে জিজানের আরামকো শোধনাগারের দিক থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এ শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে।
এশিয়াভিত্তিক দুটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, জিজানে জ্বালানি ও তেল সংরক্ষণাগারের কিছু ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তারা পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরামকো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ইয়ানবুতেও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে ইয়ানবু এখন সৌদি তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তেহরানে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান।
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার মারিব ও আল জাওফ প্রদেশে হুথিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। উভয় পক্ষই নতুন করে সেনা মোতায়েন করছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর যে গৃহযুদ্ধ অনেকটা স্থবির ছিল, তা আবারও জ্বলে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং তাদের নেতা আবদুল মালিক আল হুথি সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের সব তেল স্থাপনাই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সূত্র- রয়টার্স




