লেবাননে যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চাপ দেয়’ সৌদি আরব, কিন্তু কেন

রিয়াদের সমর্থন ছাড়া ইসলামাবাদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক কার্যক্রম সামলানো সম্ভব ছিল না। ছবি : সংগৃহীত
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল সৌদি আরব। ইরানের সঙ্গে আলোচনা টিকিয়ে রাখতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে রিয়াদ।
একাধিক মার্কিন, পশ্চিমা এবং আরব কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেবাননে যুদ্ধবিরতির গুরুত্ব বোঝাতে চাপ দেন। এর পরপরই বৃহস্পতিবার বিকেলে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
কর্মকর্তাদের মত, সৌদি আরবের তদবিরের কারণেই এই ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে ইসরায়েল এই চুক্তি মেনে চলবে কি না বা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্প কতটা চাপ প্রয়োগ করবেন, সেটি এখনো অস্পষ্ট। এরই মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নিয়ে লেবানন সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
ট্রাম্প ও সালমানের কথোপকথন সম্পর্কে অবগত একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেছেন, মূলত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চান মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য অর্জন এবং যুদ্ধ বন্ধের জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য।
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও নেপথ্যে সৌদি আরবের সমর্থন ছাড়া ইসলামাবাদের পক্ষে এই বিশাল কূটনৈতিক কার্যক্রম সামলানো সম্ভব ছিল না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ২১ এপ্রিল। যদি লেবাননে শান্তি বজায় থাকে, তবেই সম্ভাবনা তৈরি হবে এই মেয়াদের সীমা বাড়ানোর।

