নতুন মার্কিন হামলার জবাব
বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান ও হরমুজের জাহাজে ইরানের হামলা

তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ইরানের যুদ্ধের পক্ষে জনতার সমাবেশ। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান আবারও বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবং হরমুজ প্রণালিতে থাকা দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দায় স্বীকার করেছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার ভোরে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকেও ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি অবৈধভাবে অতিক্রমের চেষ্টাকারী দুটি তেলবাহী ট্যাংকারও হামলার শিকার হয়েছে।
বাহরাইন দুইবার বিমান হামলার সাইরেন বাজিয়েছে। কুয়েত বলেছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে।
আইআরজিসির ভাষ্য, এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বারবার লঙ্ঘনের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এতে বলা হয়েছে, তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ জলপথের সকল যানবাহনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এই পাল্টা হামলাগুলো চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলাগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় এবং ইরানের অযাচিত ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাবে চালানো হয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তিন দফায় প্রায় এক ডজন জায়গায় হামলা করেছে, যার মধ্যে ইরানের রাজধানীর পশ্চিমে অবস্থিত কারাজ শহর এবং মধ্যাঞ্চলীয় আবিয়েক কাউন্টিও রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম ও কিশ দ্বীপে এবং হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কারগানেও বিস্ফোরণ ঘটে, এতে অন্তত দুজন আহত হন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হামলা শুরুর চার ঘণ্টা পর আপাতত এটি সমাপ্তির ঘোষণা দিয়ে। সামাজিকমাধ্যম এক্সে বলা হয়েছে, ইরানজুড়ে সামরিক নজরদারি সক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানা সম্পন্ন হয়েছে। তবে, ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক হামলা চালানোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের যেসব স্থানে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোতে বেশিরভাগেই আগের হামলা চালানো হয়েছে। ইরানিদের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার একমাত্র উপায় হিসেবে আমেরিকানরা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা শুরু করছে, কিন্তু তেহরান জোর দিয়ে বলছে, এর ফল হবে বিপরীত।
সূত্র : আলজাজিরা




