হুতির নতুন হুঁশিয়ারি
সৌদির বন্দরে নোঙর ফেলা জাহাজে ‘যেকোনো স্থানে’ হামলা
- হুতিরা সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে

চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের গোষ্ঠীটি- রয়টার্স
সৌদি আরবের কোনো বন্দরে নোঙর ফেলা যাবে না। যাবে না পণ্য ওঠানো-নামানোও। এমন কার্যক্রমে জড়িত জাহাজগুলো ‘যেকোনো স্থানে’ হুতির হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। জাহাজ চলাচলকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে পাঠানো এক ই-মেইলে এই চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের গোষ্ঠীটি।
হুতিরা সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এর ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন একটি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য পড়তে পারে হুমকির মুখে।
২০ জুলাইয়ের তারিখ দেওয়া ওই ই-মেইলে বলা হয়েছে, ‘কোনো জাহাজ সৌদি আরবের কোনো বন্দরে বা সেখান থেকে পণ্য ওঠানো বা নামানো করতে পারবে না।’ একাধিক জাহাজ পরিবহন কোম্পানি পেয়েছে ই-মেইলটি।
ই-মেইলে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা জোরালোভাবে সুপারিশ করছি, আপনার প্রতিষ্ঠান যেন সব ধরনের কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই অনুসরণ করে।’
ই-মেইল অনুযায়ী, নতুন ২০ জুলাই গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে এই নির্দেশনা।
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত জাহাজ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে।’
এতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘এ ছাড়া ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান পরিচালনার আওতার মধ্যে যেকোনো স্থানে সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।’
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেলে হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি অচল হয়ে যাবে। এতে আরও বাড়বে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ইয়েমেন উপকূলে হুতিদের হামলা শুরু হওয়ার পর লোহিত সাগরের নৌ চলাচল এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে তারা ওই হামলা শুরু করেছিল বলে দাবি।
হুতিদের সানাভিত্তিক হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এইচওসিসি) ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সময় জাহাজ চলাচল খাতের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করার প্রধান সংস্থা হিসেবে কাজ করেছে। গত বছরের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শেষ হয় সেই অভিযান।
ই-মেইল পাওয়া কোম্পানিগুলোর একটির একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ‘আমাদের বিশ্বাস, এই ই-মেইলটি ওই এলাকায় তাদের উপস্থিতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি পদক্ষেপ।’




