হরমুজ প্রণালিতে টোল নেওয়া হবে ইরানি মুদ্রায়!

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন এক অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে টোল দিতে হবে ইরানি মুদ্রা রিয়ালে। এ প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইরানের মুম্বাই কনস্যুলেট জেনারেলের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টের বরাতে এ খবর জানায় সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করতেই এ উদ্যোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য কমিয়ে আনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ডলার নির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে দেশটি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের কারণে সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে এবং কিছু ক্ষেত্রে টোল আরোপ করে ইরান। সে সময় কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এ শুল্ক আদায় করা হয়েছিল বলে জানা যায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে।
বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং শীর্ষস্থানীয় সামুদ্রিক সংবাদ ও তথ্য সরবরাহকারী মাধ্যম লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চের মধ্যে অন্তত দুটি বড় জাহাজ ডলারের পরিবর্তে পাওনা পরিশোধ করেছে ইউয়ানে।
অনেকেই মনে করেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে বাধ্য হয়ে লেনদেন করতে হবে ইরানি মুদ্রায়। এতে একদিকে যেমন ইরানের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় নির্ভরতা কমবে ডলারের।
বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এখানে যেকোনো নীতিগত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ইরানের এ নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।















