সিনেটকে ট্রাম্পের চিঠি
ইরানে ফের রাতভর হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আরও তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত। এর মধ্যেই টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, কুয়েত, বাহারাইন, ওমানের মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে দুই দেশের।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, ইরান সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে মার্কিন বাহিনী ইরানে তাদের সর্বশেষ হামলা শুরু করে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরীহ বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজে’ হামলা চালানো ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, রাতভর দেশটির দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস, কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং বুশেহর প্রদেশের জাম শহরও রয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের পশ্চিমাঞ্চলে একটি গোলা আঘাত হানলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক গভর্নরের কার্যালয় এ তথ্য দিয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী’ জাহাজে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর আব্বাসের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে একটি ট্যাংকারে থাকা একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে তারা আরও বিস্তৃত প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে।
সিনেটকে ট্রাম্পের চিঠি: ‘ওয়াশিংটন আবারও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে’— যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন এ কথা। গণমাধ্যমগুলোর হাতে আসা গত শুক্রবারের একটি চিঠিতে ট্রাম্প যুক্তি দেখিয়েছেন, ইরানের ওপর এই নতুন হামলা ‘দেশে এবং বিদেশে মার্কিন নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য’ তার দায়িত্বের অংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউজ দাবি করেছে, এ পদক্ষেপের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন করে আরও ৬০ দিন সময় পাবে।
এর আগে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পের যুদ্ধ করার ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের চেষ্টা করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জন্য ট্রাম্প কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন নেননি। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ (যুদ্ধক্ষমতা আইন) অনুযায়ী, কংগ্রেস অনুমোদন না দিলে সামরিক অভিযান শুরুর ৬০ দিন পর প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হয়।
যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করবেন না: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যরা ইরানের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ শুরু করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এটিকে তাদের দেশের সংবিধানের লংঘন বলে অভিহিত করেছেন তারা। মেহর নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে এ কথা।




