দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১১

ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্থ স্থানে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। শনিবারের এসব হামলাকে গত ২০ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আনসার গ্রামের প্রান্তে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। দেইর আল-জাহরানি গ্রামে আরেক হামলায় নিহত হয়েছেন চারজন। আহত হয়েছেন ১৭ জন।
এর আগে ২৬ জুন ইসরায়েল ও লেবানন একটি ‘কাঠামোগত চুক্তিতে’ পৌঁছায়। এতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিনিময়ে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রাখা হয়। তবে হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনায় রাজি হয়নি এবং চুক্তির অংশও ছিল না।
দক্ষিণ লেবাননে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম। তিনি বলেছেন, এসব হামলা ঘরবাড়িতে থাকা বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আনসারে নিহত সাতজন ‘সামরিক অবকাঠামো’ ছিল না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, এসব হামলা আলোচনার প্রক্রিয়া এবং চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার প্রতি ‘স্পষ্ট বার্তা’।
শনিবার ভোরে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আলি তাহের পাহাড়েও ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও লিতানি নদীর উত্তরের এলাকাগুলোয় ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে আসছে। দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আনসার ও আলি তাহের এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা করে তিনজনকে গুরুতর আহত করার পর এই হামলা চালানো হয়।
পরে জানা যায়, যে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল, সেখানে হিজবুল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ রেখেছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
তবে আনসারে হামলায় হিজবুল্লাহর রাদওয়ান বাহিনীর এক ব্যাটালিয়ন কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসান নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
তার পরিবারও ওই হামলায় নিহত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজবুল্লাহ সমর্থকরা জানিয়েছেন।
হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারকে এই ‘আগ্রাসন’ বন্ধের উপায় খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা না করার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।
চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ লেবাননে বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি বাহিনীর এটিই ছিল প্রথম সেনা নিহতের ঘটনা। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় হিজবুল্লাহ কোনো মন্তব্য করেনি।
এখন পর্যন্ত লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সাত দফা আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি চলতি মাসের শুরুতে রোমে অনুষ্ঠিত হয়। তবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা ছাড়াই লেবানন সরকার অতিরিক্ত ছাড় দিচ্ছে।
চলমান ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ শুরু হয় ২ মার্চ। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার দুই দিন পর হিজবুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে রকেট হামলা চালালে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে শত শত বেসামরিক মানুষ রয়েছেন। ইসরায়েলি পক্ষেও প্রায় ৪০ সেনা ও তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সূত্র : এবিসি নিউজ






