তাসনিমের প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসন ব্যর্থ, এগোচ্ছে ইরানের বিজ্ঞান

হামলায় বিধ্বস্ত ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্র। ছবি : তাসনিম নিউজ এজেন্সি
চার মাস আগে ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র থেকে ‘জাফর-২’ নামক (ট্রায়াম্ফ-২) উপগ্রহটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং উৎক্ষেপণের পর এটি সফলভাবে কক্ষপথে প্রবেশ করে।
যে প্রকল্পের অধীনে এই উপগ্রহটি স্থাপন করা হয়েছিল, তা কোনো সামরিক ঘাঁটিতে ছিল না; বরং এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এটি। শ্রেণীকক্ষ, গবেষণাগার এবং শিক্ষার্থীদের কর্মশালার মাধ্যমে এটি সফল করা সম্ভব হয়।
যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাটেলাইট গবেষণা কেন্দ্রটিকে। এটি তেহরানের কেন্দ্রে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত একটি ভবন।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের সংবাদদাতা হামলার শিকার স্থানটি থেকে সরেজমিন বিবরণ দিয়েছেন। প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকটি ছবিও।
এটি ছিল দেশীয় মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের গবেষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নিবেদিত একটি গবেষণা কেন্দ্র। সেখানে এখন ধ্বংসের চিহ্ন দৃশ্যমান, তবুও জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ছাপ রয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জোর দাবি, প্রযুক্তি শুধু ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এবং কোনো স্থাপনা ভেঙে ফেললেই মানুষের মস্তিষ্কে গড়ে ওঠা জ্ঞান ধ্বংস হয়ে যায় না।
ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, যেমন ফিনিক্স পাখি ছাই থেকে পুনরুজ্জীবিত হয়, তেমনি গবেষণা ও উন্নয়নের পথও থামবে না— যে পথ অতীতে জাফর-২ উপগ্রহ পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল এবং ভবিষ্যতেও তা চালু থাকবে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলা ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি থামাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির শিক্ষার্থী ও গবেষকরা। তাদের কণ্ঠে দৃঢ়তার সুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার কারণে ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।






