‘আমরা এখানে না থাকলে হিজবুল্লাহ থাকবে’

দক্ষিণ লেবানন থেকে পাঠানো একটি ড্রোনের কারণে লাগা আগুন নেভাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। ফাইল ছবি
লেবানন সীমান্ত ঘেঁষে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বসবাস করা সহজ নয়। দক্ষিণ লেবাননের পাশে থাকা এ অঞ্চলে সতর্কতা সাইরেন খুবই সাধারণ ঘটনা। সতর্কবার্তা শেষ হওয়ার আগেই ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্ত অতিক্রম করে আঘাত হানতে পারে যেকোনো স্থাপনায়।
উত্তর ইসরায়েলে বসবাস করা আনাত ডাটনার-মুয়ালেম দম্পতি এসব ভালোভাবেই জানেন। অঞ্চলটি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মূল কেন্দ্র দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তের। ২৩ বছর ধরে এই অঞ্চলকে নিজের ঘর বলে মনে করতে গিয়ে তিনি এটাও শিখেছেন; এখানে বসবাস করার মানে সাইরেন বা ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির হামলার মূল লক্ষ্য উত্তর ইসরায়েল। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় তেল আবিব ও বৈরুত সাময়িক অস্ত্রবিরতি হলেও দক্ষিণ লেবানন এবং উত্তর ইসরায়েলে থামেনি সংঘাত। বিশেষ করে উত্তর ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি এলাকা ও আশপাশ।
১৮ বছরের নিচের তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে আপার গ্যালিলি এলাকায় থাকে ডাটনার-মুয়ালেম পরিবার। ডাটনার তার স্বামী অ্যারন মুয়ালেমকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কিবুটজ কাফার গিলাদি বাজারে ‘নানুশ’ নামে একটি ক্যাটারিং কোম্পানি চালান, যা এখনো চালু আছে।
যুদ্ধের সময় এ দম্পতি জরুরি কর্মী এবং স্থানীয়দের খাবার সরবরাহ করে গেছেন। তারা এখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ দম্পতির ভাষ্য, উত্তর ইসরায়েলে তারা না থাকলে অঞ্চলটির দখলে নেবে হিজবুল্লাহ। এ ভয় থেকে তাদের মতো অনেক বাসিন্দা উত্তর ইসরায়েলের বসতবাড়ি ছাড়ছেন না।
অথচ ২০২৩ সালে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধের সময় অধিকাংশ বাসিন্দা এ এলাকায় ছিলেন না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে এই সংঘাতের কারণে উত্তর ইসরায়েল জুড়ে প্রায় ৯৬ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি হলে প্রায় ৫৫ হাজার আবার ফিরে আসেন এলাকায়। ওই সময় ১৪ মাস যাযাবর জীবন কাটানোর বাজে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এ দম্পতি।
ডাটনার দাবি করেন, ‘কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এক সেকেন্ডের মধ্যে রকেট এসে আমাদের ওপর পড়তে পারে। কিন্তু আমাদের মতো অধিকাংশ উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দা সিদ্ধান্ত নিয়েছে— এ জায়গা আমরা ছাড়ছি না, যদিও শহর কর্তৃপক্ষ সম্ভব হলে স্থান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।’
তার ভাষ্য, ‘আমাদের বাড়ি, আমাদেরই জায়গা, আমাদের আপন ঠিকানা। আমরা কোনো অবস্থাতেই তা ছেড়ে যেতে রাজি নই। আমাদের আশপাশের প্রতিটি পরিবারও একই রকম বিশ্বাস করে।’
ডাটনারের জোর দাবি, ‘আমরা যদি এখানে না থাকি, সহজ হিসাব; হিজবুল্লাহ এখানে থাকবে। তাই আমাদের থাকাটা অত্যন্ত, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’



