সানায় হামলা ইয়েমেনি বাহিনীর, সৌদির তেল স্থাপনা জ্বালিয়ে হুতির জবাব

হুতিদের দাবি করা হামলার পর রিয়াদে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় আগুনের কাল ধোঁয়া দেখা গেছে। ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত বেড়েছে। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সানা ও সাদায় হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। একই সময়ে হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।
শনিবার স্থানীয় সময় ইয়েমেনি সরকারের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সানা ও সাদায় হুতিদের ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সরকারের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি বলেছেন, তাইজ প্রদেশের আল-তাওয়াহি ফ্রন্ট এবং লাহিজ প্রদেশের আল-বাহা এলাকায় হুতিদের বিরুদ্ধে ৯৭টি ‘নির্ভুল হামলা’ চালানো হয়েছে।
এসব অভিযানে বিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্নাইপার ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আল-নুজাইলির দাবি, এসব হামলায় হুতিদের ২৬০ সদস্য ‘নিরস্ত্র’ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামরিক যান এবং পরিবহন ও সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত যান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানিয়েছিলেন, সানা, মিদি, বাকিম, আল-জাওফ, মারিব, আল-বাইদা, লাহিজ ও তাইজে হুতিদের বিরুদ্ধে ২৫৭টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
তবে এসব যুদ্ধক্ষেত্রের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
এদিকে ইয়েমেনি সরকারের হামলার খবরের পর হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরামকোর একটি বড় তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে।
শনিবার ওই স্থাপনা থেকে আগুনের শিখা ও ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পরে সেখানে আগুন নেভাতে কাজ করেন দমকলকর্মীরা।
তবে আগুনের কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদের আরামকোর স্থাপনাগুলোয় ‘সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান’ চালানো হয়েছে।
তার দাবি, হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে আগুন ধরে যায় এবং অভিযান সফল হয়েছে।
সারি বলেছেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকায় সৌদি হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
হুতিদের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় ৬০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জবাবেই রিয়াদে আরামকোর স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর সৌদি হামলার সংখ্যা ১ হাজার ৪১০-এ পৌঁছেছে।
সানা ও রিয়াদকে ঘিরে সর্বশেষ এ পাল্টাপাল্টি হামলা ইয়েমেন সংঘাতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে।
সরকারের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, সানা ও সাদায় হুতিদের ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়’ আঘাত হানা হচ্ছে। হুতিদের সামরিক সক্ষমতা হামলার বাইরে থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনের ওপর হামলা ও অবরোধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাল্টা হামলা চলবে।
গোষ্ঠীটি ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ এবং ‘উত্তেজনার জবাবে উত্তেজনা’ নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছে। সৌদি বাহিনীর সমাবেশও লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছে তারা।
ফলে একদিকে সানা ও ইয়েমেনের অন্য হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি বাহিনীর হামলা চলছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করছে হুতিরা।
দুই পক্ষই নিজেদের হামলাকে অন্য পক্ষের আগের হামলার জবাব হিসেবে তুলে ধরছে। তবে সর্বশেষ হামলাগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার, হুতিদের গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেই সর্বশেষ এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশটির সংঘাত আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা ও রয়টার্স




