হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদি আরবের

ইয়েমেনের সানায় লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুতি বাহিনীর অগ্রযাত্রা উদ্যাপনে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন গোষ্ঠীটির সমর্থকেরা। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে। এর লক্ষ্য লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া।
আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী স্থল অভিযান চালাবে। তাদের সহায়তা করবে সৌদি বিমানবাহিনী।
ছয়জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অভিযানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তবে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।
তাদের ভাষ্য, সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে উপকূল ধরে অগ্রসর হওয়া অথবা ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে একসঙ্গে হামলা চালানোর বিষয়টি রয়েছে।
অভিযানের পরিসরের ওপর নির্ভর করে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে এই অভিযানে মোতায়েন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইয়েমেনে সৌদি অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। কয়েকটি আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় দেশও সৌদিকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে এসব দেশ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না।
এরই মধ্যে ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। শুক্রবার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে ১ হাজার ৫৪০ হুতি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তাইজ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি হতাহতের দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। তাদের ভাষ্য, সেখানে হুতিদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে তাইজ এখন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে।
শনিবার তাইজে আল-হুবান সড়কপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে সরকারি বাহিনী। এই পথটি হুতি-নিয়ন্ত্রিত আল-হুবানকে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আশপাশে হামলা এবং সামরিক প্রস্তুতি বাড়ার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে পথটি বন্ধ করা হয়েছে।
২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি আরব আরব জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করতে যুদ্ধে নামে। ২০২২ সালে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও এ বছর ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুতিরা সৌদি জাহাজ ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
সাম্প্রতিক লড়াইয়ে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য সরবরাহ ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়েও চাপ বেড়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের প্রায় তিনটি পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে।
হুতিদের হাতে লোহিত সাগরের উপকূলের বড় অংশ চলে যাওয়ার পর বাব আল-মানদাব প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে সৌদি আরবের সম্ভাব্য নতুন অভিযান শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র : আলজাজিরা ও রয়টার্স




