বাঘের গালিবাফ
যুক্তরাষ্ট্রের দাদাগিরির যুগ শেষ

তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ারের একটি ম্যুরালে লেখা আছে, তোমরা আবার ইরানের সামনে নতজানু হবে। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের বড় লঙ্ঘনের দিকগুলোর তালিকা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাদাগিরি ও চাঁদাবাজির যুগ শেষ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানি স্পিকার তালিকা দিয়ে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকের বড় ধরনের লঙ্ঘনগুলো হলো: ১. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় না করা ২. তেল বিক্রির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ ৩. দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং ৪. লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রাখা।
স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করেছেন, ওয়াশিংটনের ধমক ও চাঁদাবাজির যুগ শেষ হয়ে গেছে।
তিনি আরও লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই লঙ্ঘনগুলো ইরানকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হবে। এটি কোনো কাজে আসবে না। আমরা নতি স্বীকার করব না।
এদিকে, গত ১৭ জুলাই কাতার ও পাকিস্তান-সমর্থিত একটি সমঝোতা স্মারক সই করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই ১৪ দফার চুক্তিতে সকল ফ্রন্টে শত্রুতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অন্তত ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে টোল-মুক্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়া এবং ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে ইরানের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টি এবং কিশম দ্বীপের কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ৭ জুলাই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আক্রমণাত্মক অভিযান চালিয়েছে এবং নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহার করে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে এবং ইরানি বন্দর ও জাহাজের ওপর অবৈধ নৌ-অবরোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান শত্রু রাষ্ট্রগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
সূত্র : প্রেস টিভি




