স্যাটেলাইট চিত্রের তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ৫০টির বেশি সামরিক ঘাঁটি

দেশটির শিরাজ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদর দপ্তরসহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের ৫০টির বেশি সামরিক ঘাঁটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ভেরিফাইয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা বেশ কিছু স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে এই ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে ইরানের বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ইরান জুড়ে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের এক ডজনের বেশি সামরিক ঘাঁটির রানওয়ে এবং যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে।
গত ৭ মার্চ মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক অংশে হামলায় অন্তত ১৭টি উড়োজাহাজ এবং ২ থেকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে শিরাজ বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের-ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে ইরানের আকাশসীমার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর বাইরে ইরানের নৌবাহিনীর সদর দপ্তর বন্দর আব্বাস নৌ ঘাঁটি এবং কোনারক নৌ ঘাঁটিতে যুদ্ধের শুরুতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। স্যাটেলাইট চিত্রে আইআরজিসির নৌ সদর দপ্তর এবং তেহরানের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাধারণ সদর দপ্তরেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।
এই যুদ্ধে কেবল সামরিক স্থাপনাই নয়, বরং ব্যাপক বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া,যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও দমন-পীড়নকারী বাহিনী বাসিজের তেহরানের কমান্ড সেন্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
সূত্র : বিবিসি





