যুক্তরাষ্ট্র কেন কেশম দ্বীপে বারবার হামলা করছে

ছবি: রয়টার্স
একসময় শান্তিপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও পর্যটন স্বর্গ হিসেবে বিবেচিত ইউনেস্কো-স্বীকৃত জিওপার্কের জন্য বিখ্যাত ইরানের কেশম দ্বীপ এখন একটি সম্মুখ যুদ্ধের সামরিক দুর্গে পরিণত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তির আলোচনায় অনিশ্চয়তার মধ্যে মঙ্গলবার দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এছাড়া যুদ্ধের শুরু থেকেই বহুবার ওয়াশিংটনের লক্ষ্যবস্তুতে ছিল কেশম দ্বীপ।
প্রায় ১,৪৪৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত কেশম উপসাগরের বৃহত্তম দ্বীপটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ট্রানজিট হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অবস্থিত।
দ্বীপটির অনন্য ভৌগোলিক অবস্থান এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত অবকাঠামোসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্যে পরিণত করেছে।
প্রধানত যেসব কারণে কেশম দ্বীপ হামলার শিকার
ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক : কেশম ইরানের জন্য একটি অডুবন্ত বিমানবাহী রণতরী হিসেবে কাজ করে। এর ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক এবং গোলকধাঁধার মতো লবণ গুহাগুলোতে অত্যন্ত গোপনীয় উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি এবং দ্রুত আক্রমণকারী নৌকা লুকিয়ে রাখা হয়।
ক্ষেপণাস্ত্র নগরী : দ্বীপটির ভূগর্ভে ইরান নৌ-যুদ্ধের উদ্দেশ্যে উপকূলীয় কামান লুকিয়ে রেখেছে, যার সুস্পষ্ট লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করে দেওয়া।
বৈশ্বিক জ্বালানি করিডোর রুদ্ধ করা : যেহেতু ইরান সফলভাবে কেশম দ্বীপকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে প্রণালিটিতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস ট্যাংকারগুলোর চলাচল থামিয়ে দিতে বা সীমিত করতে পারে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দ্বীপটিকে চলমান জ্বালানি যুদ্ধের কেন্দ্র হিসেবে দেখে।
প্রতিশোধমূলক সম্মুখ যুদ্ধক্ষেত্র : দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি গোলাগুলির একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গতকালের ঘটনা ছাড়াও অতীতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানোর জন্য কেশম দ্বীপে আইআরজিসির অবস্থান এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়।
সূত্র : আলজাজিরা




