ইরান যুদ্ধ
রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়

হরমুজে ভাসছে ইরানি বিপ্লবী গার্ডস কোরের ছোট আকারের অনেকগুলো ওয়ারবোট। ছবি : রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কৌশলগতভাবে হেরে গেছে বলে মনে করেন কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কাছে তিনি দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধের অর্থনৈতিক ক্ষতি তেহরানের চেয়ে ওয়াশিংটনেরই বেশি হয়েছে।
তার যুক্তি, আর্থিক দিকের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর কৌশলগত ক্ষতি সম্ভবত আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
পারসি মনে করেন, ইরান ৪৭ বছর ধরে সব ধরনের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। কিন্তু এর কোনোটিই ইরানিদের মনোবল ভাঙতে বা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে পারেনি।
তার জোর দাবি, উভয় পক্ষই সম্ভবত আরও কয়েক সপ্তাহ টিকে থাকতে পারবে। কিন্তু এতে পরিস্থিতি কেবল আরও খারাপই হতে চলেছে।
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য এর প্রভাব মারাত্মক হবে বলে ধারণা পারসির। ইতোমধ্যে উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি জন্য এটি ভয়াবহ বিপর্যয় ঢেকে এনেছে অনুন্নত ও গরীব দেশগুলোর জন্য। এও বলা যায়, রাজাদের যুদ্ধে প্রাণ যেন যায় যায় অবস্থা প্রজাদের।
উদাহরণস্বরূপ, কুয়েত পুরো এক মাস ধরে কোনো তেল রপ্তানি করেনি–যা গত ৩০ বা ৪০ বছরেও ঘটেনি। এছাড়া তেল বিক্রির ওপর নির্ভর করা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাইরাইন ইতোমধ্যে বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির ক্ষতি দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকাসহ বিশ্বের তুলনামূলক কম উন্নত অঞ্চলের জন্য আরও বেশি হুমকির। তেল ছাড়াও রেমিট্যান্সের জন্য আরব দেশগুলোর ওপর নির্ভর করে উন্নয়নশীল বিশ্ব।
পারসির বিশ্বাস, এমন পরিস্থিতে চীনের মতো শক্তিধর দেশগুলোর চাপ উভয় পক্ষকে একটি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এ বিশ্লেষক জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পরিণতি নিয়েও আলোচনা করেছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অন্ততপক্ষে কৌশলগতভাবে পরাজিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে ইউক্রেনিয়রা রাশিয়ার সঙ্গে যতটুকু করতে পেরেছে, ইরানিরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঠিক তাই করতে সক্ষম হয়েছে।
পারসির মত, এটি আমেরিকার সামরিক শক্তি, নির্ভরযোগ্যতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে।



