ইসরায়েলি আরব জোট
দুই রাষ্ট্র নয়, এক দেশেই সমান অধিকার
- ইসরায়েলের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে ফিলিস্তিনি ভোট

ইসরায়েলের আরব রাজনৈতিক জোটের নেতা ইউসুফ জাবারিন
পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া যেতে পারে। তবে বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদের দিতে হবে পূর্ণ নাগরিক অধিকার। ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে। কয়েক দশকের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিতর্কে এমন বিকল্প তুলে ধরলেন ইসরায়েলের আরব রাজনৈতিক জোটের নেতা ইউসুফ জাবারিন। সামনে দেশটির সাধারণ নির্বাচন। সেই ভোটে সরকার গঠনের হিসাব বদলে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তাঁর জোটের।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন জাবারিন। উত্তর ইসরায়েলের হাইফায় তিনি জানিয়েছেন, পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকে ফিলিস্তিনিদের একমাত্র পথ মনে করেন না। তাঁর কথায়, ‘আমরা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানেই অনড় নই। আমরা বলছি, সেটিও গ্রহণযোগ্য।’ অর্থাৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমান অধিকারের ভিত্তিতে একটি যৌথ রাষ্ট্রের সম্ভাবনাও আলোচনায় রাখতে চান তিনি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু সেখানকার ফিলিস্তিনিরা পাবেন ইহুদি নাগরিকদের সমান রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার। বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার উদাহরণ টেনে জাবারিন বলেছেন, একই রাষ্ট্রে ভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের মানুষের সমান মর্যাদা সম্ভব। তাঁর বিশ্বাস, ফিলিস্তিনিরা এমন প্রস্তাব স্বাগত জানাতে পারেন। তবে এটি তাঁর মূল্যায়ন, ফিলিস্তিনি জনগণের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়।
প্রেক্ষাপটও জটিল। টেলিগ্রাফের হিসাবে, পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী রয়েছেন। বিস্তৃত বসতি, নিয়ন্ত্রিত সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন ফিলিস্তিনি জনপদ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক বাস্তবতা কঠিন হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে পশ্চিম তীর নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে থাকা ইসরায়েলি কট্টরপন্থীদের অনেকে সেখানকার ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ভোটাধিকার দেওয়ার বিরোধী। ফলে জাবারিনের ধারণা বাস্তবায়নের পথও সহজ নয়।
আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন। জাবারিন নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের। জোটটি আট থেকে দশটি আসন পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে নির্বাচনী সমীক্ষার কথা উল্লেখ রয়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১ আসন। কোনো প্রধান শিবির এককভাবে সেই সীমায় পৌঁছাতে না পারলে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের ভোটার তালিকায় আরব নাগরিক প্রায় ১১ লাখ। মোট ভোটারের প্রায় ১৭ শতাংশ। অথচ আগের নির্বাচনে তাঁদের প্রায় অর্ধেক ভোট দেননি। এবার অংশগ্রহণ ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে তুলতে চান জাবারিন। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের হাতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা রয়েছে।’ তবে আরব জোটের সঙ্গে সরকার গঠনে সহযোগিতা নিয়ে ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও বড় ধরনের আপত্তি রয়েছে।
জাবারিনের লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের অবসান। তবে বিকল্প সরকারকে নিঃশর্ত সমর্থন নয়। আরব অধ্যুষিত শহরে বরাদ্দ বৃদ্ধি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা বদল এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরুর প্রতিশ্রুতি চান তিনি। প্রয়োজনে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সংখ্যালঘু সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থনের সম্ভাবনা রেখেছেন। ক্ষমতাসীন জোটের নীতিকে তিনি বৈষম্যমূলক বলেছেন।
জাবারিনের দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান অবশ্য এখনও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে। তাঁর নতুন বক্তব্য কোনো চুক্তি নয়, সম্ভাব্য পথের আলোচনা। নির্বাচনের আগে তাই দুটি প্রশ্ন সামনে। সরকার গঠনের চাবি কি আরব ভোটারদের হাতে যাবে? আর পৃথক রাষ্ট্রের সীমানা নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ পেরিয়ে সমান অধিকারকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা আদৌ শুরু হবে?



