‘মার্কিন বিমানঘাঁটিতে’ ইরানের হামলা

সংগৃহীত ছবি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বন্দর আব্বাসে মার্কিন সামরিক হামলার জবাবে তারা একটি ‘মার্কিন বিমানঘাঁটিতে’ পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ওই হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এমন একটি বিমানঘাঁটি, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ‘আগ্রাসন’ পরিচালিত হয়েছিল। তবে ঘাঁটিটির অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার খবর প্রকাশিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানান, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি ইরানি ড্রোনও ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার প্রতিক্রিয়া হবে ‘আরও কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক’।
এদিকে কুয়েতের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবেলায় সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল সরবরাহ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এরপর থেকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।
সবশেষ সোমবার (২৫ মে) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলা’ চালায়। তবে তেহরান সেই হামলাকে দুই দেশের নাজুক যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।






