ইউক্রেনকে ক্ষমা করল ইরান, নেবে না প্রতিশোধ

ইরানের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই। ছবি- সংগৃহীত
ইরান ইউক্রেনের তিনটি স্থাপনায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে ‘ক্ষমা চাওয়ার’ পর শেষ মুহূর্তে ওই অভিযান বাতিল করা হয় বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই।
সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেছেন, হামলা চালানোর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। পরে অভিযানটি বাতিল করা হয়।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত নৌপথের বাইরে কোনো সামুদ্রিক পথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। কোনো শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ‘অবৈধ পথ’ ব্যবহার করার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সংঘাতে ইরান মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলেও দাবি করেছেন রেজাই। তার ভাষ্য, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। গত ২৫ জুলাই ইরান অভিযোগ করে, কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেন একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় এক নাবিক নিহত হন।
পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাকে জানান, ওই হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য কিয়েভকে তেহরানের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এদিকে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরানও ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশে হামলা চালায়।
এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর লক্ষ্য ছিল সামরিক সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো।
তবে গত মাসে ওই সমঝোতা ভেস্তে যায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়।
সূত্র- আনাদুলো এজেন্সি




