শিগগির খুলছে না হরমুজ প্রণালী: ইরান

ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে ওমানের সঙ্গে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও দ্রুত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই, ফলে শিগগির খুলছে না হরমুজ প্রণালী, এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র ও দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা।
বুধবার রয়টার্সকে তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে দ্রুতই সমঝোতা হয়ে যাবে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন আশাবাদ বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলছে না। তাদের ভাষ্য, এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিয়ে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনায় থাকা একটি খসড়া চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি রয়েছে। তবে প্রণালী পেরিয়ে বাইরে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা কী হবে, তা এখনো নিষ্পন্ন হয়নি।
এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে সেই নিয়ন্ত্রণের পরিধি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে।
আঞ্চলিক আলোচকদের প্রস্তাব, জাহাজ পরিদর্শনের তদারকি উপসাগরীয় দেশগুলোর হাতে থাকবে। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকলেও সেটি স্বেচ্ছামূলক হওয়া উচিত।
অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত থাকবে—এমন ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার দিনব্যাপী আলোচনা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান সমঝোতা থেকে সরে গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেননি। তার ভাষ্য, আলোচনা অব্যাহত থাকলেও ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে এখনই বলা যাচ্ছে না।
আরেক ইরানি সূত্রের মতে, আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা এখন বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়। এমনকি ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টও পুরো প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যের মূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছে ইরান। এর বিপরীতে ওমান প্রায় ৩ শতাংশের মতো কম শুল্কের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। আর যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের পক্ষেই নেই।
অচলাবস্থা কাটাতে শুল্ক বা ফি স্বেচ্ছামূলক ও নামমাত্র রাখার একটি প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। তবে ইরানের হামলার আশঙ্কায় জাহাজমালিক ও পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সুযোগ নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই জাহাজ চলাচল করত। ফলে সেখানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে হরমুজকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই লোহিত সাগরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা জানিয়েছে, লোহিত সাগরে একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে তারা। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি তেল পরিবহনের বিকল্প নৌপথে অবরোধ সৃষ্টি করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
এর এক দিন আগে ইয়েমেন উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে যায় ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটির ১৪ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় নাগরিক।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।




