ইয়েমেনের বন্দর শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৭

ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনের রেড সি উপকূলের বন্দর শহর আল-মাখায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত সাতজন নিহত এবং ত্রিশ জন আহত হয়েছেন। এ হামলায় শহরের বন্দর এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই হামলার একদিন পর সোমবার আবারও আল-মাখা এবং মারিবের আবাসিক এলাকায় ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনী।
স্থানীয় গণমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইয়েমেনের দক্ষিণ-কেন্দ্রীয় প্রদেশ শাবওয়ায় হুতিদের ড্রোন হামলায় দুইজন সরকারি সেনা নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।
জবাবে ইয়েমেনি বাহিনী পূর্ব আল-জাওফ প্রদেশ, উত্তর-পশ্চিম সাদা প্রদেশ এবং মারিবের আল-তিবাস এলাকায় হুতি বিদ্রোহী ও তাদের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলাগুলো চলমান বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এবং সংঘাতের উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এই সংঘাত নতুন করে বারুদে আগুন দিয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করেছিল। এরপর ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পক্ষে হস্তক্ষেপ করে।
এই দীর্ঘ সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। পরে পরিস্থিতি অচলাবস্থায় পড়ে এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধরত পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়, যা দেশজুড়ে বড় ধরনের লড়াই বন্ধ করে দেয়।
তবে গত ১৩ জুলাই সৌদি বাহিনী সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালালে সহিংসতা আবার শুরু হয়। এতে হুতিদের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল বহনকারী একটি ইরানি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি।
এর জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমে আবহা বিমানবন্দরে হামলা চালায় এবং রেড সি-তে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করে। তারা সৌদি জাহাজ ও রাজ্যের তেল স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট এর জবাবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ এবং রেড সি-তে ইয়েমেনের বৃহত্তম দ্বীপ কামারানে হামলা চালিয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করতে তারা সামনের লাইনে ইয়েমেনি সেনাদের শক্তিশালী করেছে।
সংযম রক্ষার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রান্ডবার্গ বলেছেন, ‘ইয়েমেন আজ ২০২২ সালের এপ্রিলের জাতিসংঘ-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর যে কোনো সময়ের তুলনায় পুনরায় বড় আকারের সংঘাতের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘এই উত্তেজনা ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির অর্জনগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং দেশটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে, যার ফলে এর জনগণের জন্য ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।’
সূত্র : আল জাজিরা




