হরমুজ অবরোধ
৮ তেলবাহী জাহাজ ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী

তেহরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে নিজস্ব তেল ও পণ্য অবাধে রপ্তানি করে আসছে।
ইরানের বন্দরগামী এবং সেখান থেকে ছেড়ে আসা অন্তত আটটি তেলবাহী জাহাজকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
এ তথ্য জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে জাহাজের ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। গন্তব্য পরিবর্তন করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাদের। সেই নির্দেশ মেনে নেয় সব জাহাজই। ফলে প্রয়োজন হয়নি জাহাজে ওঠার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অন্তত আটটি তেলবাহী জাহাজকে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এসব জাহাজের মধ্যে ছিল চীনের সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন যুক্তরাষ্ট্র-নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কার রিচ স্ট্যারিও।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অবরোধ কার্যকর করতে ওই অঞ্চলে ১৫টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং হাজার হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে হরমুজ প্রণালি, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ওমান সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র বলেছেন, আমাদের শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তেলবাহী জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
সামরিক বাহিনীর দাবি, নতুন কৌশল অনুশীলন করা হচ্ছে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে। এটি ইরান সরকারের সেই ঘোষণার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক ও ট্রানজিট ফি আরোপের।
ইরান আরও বলেছে, এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যেকোনো ধরনের জাহাজ চলাচল করতে হবে তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই।
বর্তমানে প্রণালিটিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে জাহাজ চলাচল। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপিত অবরোধ। যা আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে এই অঞ্চলে।
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে নিজস্ব তেল ও পণ্য পরিবহন অব্যাহত রেখেছিল ইরান। অপরদিকে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করে দেয় তারা।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন বাহিনীকে হরমুজে দেশটির সব বন্দর অবরোধের নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন প্রণালি পারাপার হওয়া যেকোনো ইরানি জাহাজ শনাক্ত করে প্রয়োজনে সরাসরি তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক আধিপত্য বজায় রেখে পূর্ণ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে ইরানের বন্দরগুলোতে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধ কার্যকর হওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই সমুদ্রপথে দেশটির সব ধরনের বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কাজ চালাচ্ছে দুটি নৌ-গাইডেড মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রণালিটিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে ইরান। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে এটি এক ধরনের দরকষাকষির উপায় হিসেবে দেখা যেতে পারে। ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা বারবার বলেছেন, সবার জন্য নিরাপত্তা, নইলে কারও জন্য নয়—এই নীতিই হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। তাই এই জলপথ পুনরায় চালু করা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রধান শর্ত।
প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়ে গেছে বিশ্ববাজারে। এতে কয়েক দশকের মধ্যে তৈরি করেছে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট।
সূত্র: আল-জাজিরা ও এনিডিটিভি

