ব্রাজিলে ভারী বৃষ্টিতে নিহত অন্তত ৬, গৃহহীন হাজারো মানুষ

ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের জুইজ দে ফোরা শহরে ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত সড়কে চলাচল করছিল একটি ট্যাক্সি। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
শনিবার পারনামবুকো ও পারাইবা অঙ্গরাজ্যে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওইসব অঞ্চলে দুই দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল।
পারনামবুকো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী রেসিফেতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে নিহত হয়েছেন অন্তত দুইজন। পাশের শহর অলিন্দাতেও আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ অঙ্গরাজ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
অন্যদিকে পারাইবা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী জোয়াও পেসোয়া এবং কামপিনা গ্রান্দে শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন এবং ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর রিস্ক অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, বৃষ্টির সময় তারা ২২টি জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। পারনামবুকো ও পারাইবায় পরিস্থিতির অবনতি এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। তবে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
গত বছর প্রকাশিত ব্রাজিলিয়ান অ্যালায়েন্স ফর ওশান কালচারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসসহ বৃষ্টিজনিত দুর্যোগ তিনগুণ বেড়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৬৪ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে রিও গ্রান্দে দো সুল অঙ্গরাজ্যে বন্যায় মারা যান অন্তত ১৮৩ জন। ২০২২ সালে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পেট্রোপোলিস শহরে বন্যায় ২৩৩ জন নিহত হন। একই বছরের তিন মাস পর রেসিফেতে ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ১৩০ জনের প্রাণহানি ঘটে।



