‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ বিরুদ্ধে বেলুচিস্তানে অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা

সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বেলুচিস্তানে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ বিরুদ্ধে এক সপ্তাহব্যাপী অভিযান শেষ করেছে তারা। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিযানের সময় বিদ্রোহীরা এক ডজনেরও বেশি স্থানে হামলা, জিম্মি করা, বিস্ফোরণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ও দরিদ্রতম প্রদেশ বেলুচিস্তানে গত শনিবার ভোরে সমন্বিত হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি কার্যত অচল করে দেয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তাদের অন্যতম বৃহৎ এই অভিযানে স্কুল, ব্যাংক, বাজার ও নিরাপত্তা স্থাপনায় একযোগে হামলা চালানো হয়।
প্রাদেশিক রাজধানী কুয়েটার বাসিন্দা ৫১ বছর বয়সী নাসরুল্লাহ খান বলেন, ‘শহরে এখন আর সংঘর্ষ নেই, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মানুষ আতঙ্কিত এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘রাদ্দ আল–ফিতনা ১’ (বিশৃঙ্খলা দমন) নামের অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, স্লিপার সেল ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএলএ জানায়, তাদের ‘হেরোফ টু’ বা ‘ব্ল্যাক স্টর্ম’ নামের অভিযানও শেষ হয়েছে এবং এর সব কৌশলগত ও কার্যগত লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ২৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া অভিযানে—যা বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার দুই দিন আগে শুরু হয়েছিল—প্রদেশজুড়ে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানে ২১৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে বিএলএর সঙ্গে সংঘর্ষে ২২ জন নিরাপত্তা সদস্য ও ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ভিন্ন তথ্য দিয়ে বলেন, সংঘর্ষে ৪৫ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বিএলএ তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে, অভিযানে তারা ৩৬২ জন সেনাকে হত্যা করেছে। তবে এই দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্রোহীরা বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ভবন ও পুলিশ স্টেশন দখল করে নেয় এবং মরুভূমির শহর নুশকি টানা তিন দিন নিয়ন্ত্রণে রাখে। পরে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে সেখান থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হটানো হয়।
প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীর সহকারী শাহিদ রিন্দ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কুয়েটার কিছু অংশসহ কয়েকটি এলাকায় এখনো চিরুনি অভিযান চলছে।’ তিনি জানান, বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত কুয়েটা থেকে প্রদেশের বৃহত্তম তামার খনিগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী একটি প্রধান মহাসড়ক মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।

