যিশু খ্রিস্টের প্রতিমূর্তিতে রূপান্তরিত পরিত্যক্ত বিমান, দেখতে হয় আকাশ থেকে

ভিডিও থেকে নেওয়া
আর্মেনিয়ায় একটি পরিত্যক্ত বিমানকে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করে যিশু খ্রিস্টের বিশাল এক ম্যুরাল তৈরি করেছেন সুইস শিল্পী মিশা হানি। তিনি ভিয়ারউইন্ড নামে বেশি পরিচিত। কেবল আকাশ থেকে দেখলেই বোঝা যায় শিল্পকর্মটির পূর্ণাঙ্গ রূপ। ওপর থেকে তাকালে বিমানের বিভিন্ন অংশ একত্রিত হয়ে গঠন করে যিশু খ্রিস্টের একটি সম্পূর্ণ প্রতিকৃতি।
ম্যুরালটিতে যিশুর প্রসারিত দুই হাত আঁকা হয়েছে বিমানের ডানার ওপর। পুরো কাঠামোটি দূর থেকে দেখতে অনেকটা ক্রুশের মতো মনে হয়।
আর্মেনিয়ার বিখ্যাত সেভান হ্রদের তীরে বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সাবেক সোভিয়েত নির্মিত ইয়াক-৪০ বিমানটিকেই বেছে নেওয়া হয় এই শিল্পকর্মের জন্য। হ্রদের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যও বাড়িয়েছে শিল্পকর্মটির সৌন্দর্য। যা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে ড্রোনচিত্রে।
রুশ সংবাদ সংস্থা রাপটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হানি জানিয়েছেন, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিমানের গায়ে ছবিটি আঁকতে ছয় দিন সময় লেগেছে তার। তবে এর আগে কয়েক মাস ধরে প্রকল্পটির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি।
শিল্পীর ভাষ্য, ‘সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল অনুপাত নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা। যাতে যেকোনো দিক থেকে দেখলেও ছবিটি সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মনে হয়।’ বিমানের জটিল গঠন এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এত ব্যতিক্রমী ক্যানভাস বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে হানি বলেছেন, ‘বিমানের মধ্যে একই সঙ্গে শক্তি ও ভঙ্গুরতার এক বিশেষ মিশ্রণ রয়েছে। যা আমাকে আকৃষ্ট করেছে।’
প্রকল্পটির জন্য আর্মেনিয়াকে বেছে নেওয়াও ছিল সচেতন সিদ্ধান্ত। ভিয়ারভিন্ড বলেছেন, দক্ষিণ ককেশাসের দেশটি ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
তার ভাষ্য, ‘এখানে এমন এক গভীরতা অনুভব করা যায়, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাছাড়া আর্মেনিয়াই বিশ্বের প্রথম খ্রিস্টান রাষ্ট্র। এই প্রকল্পের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত স্থান আর হতে পারে না।’
বার্নে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়েছিল থ্রিডি পলি ডিজাইনের মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি চিত্রাঙ্কন, গ্রাফিতি ও বিশেষভাবে কাজ করছেন অলংকরণশিল্পে। তার বিশ্বাস, শিল্প শুধু গ্যালারির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। জনসমাগমস্থলে শিল্পকর্ম স্থাপনের মাধ্যমে এমন মানুষও শিল্পের সংস্পর্শে আসতে পারেন। যারা কখনো গ্যালারিতে যান না।
খ্রিস্টাব্দ ৩০১ সালে আর্মেনিয়ার রাজা তৃতীয় তিরিদাতেস খ্রিস্টধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে দেশটির দীর্ঘ ও নানা উত্থান-পতনের ইতিহাসের মধ্য দিয়েও খ্রিস্টধর্ম আর্মেনিয়ার জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে টিকে আছে।
সূত্র: আরটি






