প্রথম দফার ভোটের পর কী বলছে তৃণমূল ও বিজেপি

সংগৃহীত ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে বিতর্কের পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রথম দফার ভোটে পড়েছে রেকর্ড সংখ্যক ভোট। প্রথম দফার ভোট শেষে দুই দলই জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী।
এদিন প্রথম দফার নির্বাচনে নেওয়া হয় ১৬ জেলার ১৫২ কেন্দ্রে ভোট। এই পর্যায়ে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ। মহিলা ভোটারের সংখ্যা এক কোটি ৭৫ লাখের বেশি। ভোট নেওয়া হয় সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিতছে বলে দাবি করেছেন দলটির প্রধান নির্বাচনী কৌশলবিদ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
তার দাবি, প্রথম দফাতেই বাংলার মানুষ নিশ্চিত করে ফেলেছেন তাদের ভবিষ্যৎ। এই মাটি বিকাশকে বেছে নিয়েছে। মোদীর নেতৃত্বে সারা দেশে চলছে বিকাশের যাত্রা। বাংলাও তাতে শামিল হতে চলেছে।
‘১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। সারা রাত ধরে আমরা বিশ্লেষণ করেছি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা সরকার গড়ব। সারা রাত ধরে বিশ্লেষণ করেছি’, প্রথম দফার নির্বাচন শেষে নিজেদের এগিয়ে রাখলেন শাহ।
এদিকে, শাসক দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ফের নিজেদের সরকার গড়ার কাছাকাছি বলে দাবি করেছে। দলটির দাবি, দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে শাসকদলের ‘ঘাঁটি’ বলে পরিচিত দক্ষিণবঙ্গে। সেই সংখ্যা যোগ হওয়ার পরে বিজেপি মাটি চাপা পড়বে।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেন, খুব কম করে হলেও ১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন জিততে চলেছে তার দল।
কুণালদের দাবি, যা ভোট হয়েছে, তাতে নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হারতে চলেছেন, ‘উনি ভবানীপুরেও হারবেন। নন্দীগ্রামেও হারবেন। উনি প্রাক্তন বিধায়ক হতে চলেছেন’।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে, যাকে অনেকেই যুদ্ধপ্রস্তুতি বলে অভিহিত করছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজ্যের অর্ধেকের বেশি আসনে এই ভোটে মূল দুই প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয়েই চাইবে যথাসম্ভব দাপট বজায় রাখতে। তবে এই দুই দলের সমানে সমান লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আগামী ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২টি আসনে। এর আগে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দফার ভোট শেষ হওয়ার পর আগামী ৪ মে একসঙ্গে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

