ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন নদী থেকে সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার

মৃত সাংবাদিক পাপু জ্যোতিশী
তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন গঙ্গাধর নদী থেকে উদ্ধার হলো এক সাংবাদিকের দেহ। ঘটনাটিকে ঘিরে আসামের ধুবড়ি জেলা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। একজন কর্মরত সাংবাদিক কীভাবে হঠাৎ নিখোঁজ হলেন? তিন দিন পর দেহই বা কেন নদীতে মিলল তার? মৃত সাংবাদিক পাপু জ্যোতিশী গোলকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ছিলেন। জানা গিয়েছে, গত ৭ জুন গোলকগঞ্জ থানার অন্তর্গত আসাম-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী ছোটগুমা গ্রাম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্য, সহকর্মী সাংবাদিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তৎপর হন তার খোঁজে। কিন্তু কোথাও সন্ধান মেলেনি তার।
অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা গঙ্গাধর নদীতে একটি দেহ ভাসতে দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধুবড়ির বিন্নাচর এলাকার কাছে নদী থেকে উদ্ধার করে দেহটি। প্রাথমিক তদন্তে মৃতদেহের শার্টের পকেট থেকে পাপু জ্যোতিশীর সরকারি প্রেস পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়। সেই পরিচয়পত্রের ভিত্তিতেই দেহটির পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। তবে সাংবাদিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয় এখনো। এটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি খুন, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনো। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে। এরই মধ্যে সবদিক খতিয়ে দেখে শুরু হয়েছে তদন্ত।
কিন্তু এ ঘটনার পর ধুবড়ি এবং আশপাশের এলাকার সংবাদমহলে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র উদ্বেগ। সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, একজন সাংবাদিকের নিখোঁজ হওয়ার পর তিন দিন ধরে কোনো হদিস না মেলা এবং পরে সীমান্তবর্তী নদী থেকে তার দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের অনেকেই। তাদের বক্তব্য, সত্য সামনে না আসা পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে তদন্ত। পাপু জ্যোতিশীর মৃত্যুর পিছনে কোনো অপরাধমূলক চক্র বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা উচিত তাও।




