আসাম
টিফিনে গরুর মাংসের অভিযোগে বহিষ্কারের মুখে ৫ মুসলিম শিক্ষার্থী

সংগৃহীত ছবি
আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় একটি স্কুলের টিফিনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, এক মুসলিম ছাত্র স্কুলে টিফিনে গরুর মাংস নিয়ে এসেছিল এবং তা দুই হিন্দু সহপাঠীর সঙ্গে ভাগ করে খেয়েছিল। এই অভিযোগ সামনে আসতেই শুধু ওই ছাত্র নয়, আরও চার মুসলিম শিক্ষার্থীও বহিষ্কারের মুখে পড়েছে। এমনকি অভিযুক্ত ছাত্রের বিধবা মাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক ছাত্র টিফিনে আনা খাবার কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে ভাগ করে খায়। পরে দুই হিন্দু ছাত্র বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ওই ছাত্রকে আটক করে কিশোর আদালতে পেশ করে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় তার মাকে, যিনি একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
পুলিশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করেছে। তবে একটি স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়ার ঘটনায় একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্র ও তার মায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি নিজেদের স্তরে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও পরে বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় গোষ্ঠী এতে জড়িয়ে পড়ে। স্কুল ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কমিটির সভাপতি সুব্রত দাস জানিয়েছেন, বৈঠকে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের পক্ষে মত উঠে এসেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার অন্য ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের নেতা মনিদুল ইসলাম শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর দাবি করেছেন, ছেলেরা স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের মধ্যে খাবার ভাগ করে খাচ্ছিল। পরে খাবারটি কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ঘটনাটি অযথা বড় আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গোয়ালপাড়ার জেলা প্রশাসক প্রদীপ তিমুং এবং পুলিশ সুপার নবনীত মহন্ত স্কুলে যান। জেলা প্রশাসক একটি ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি স্কুলে মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করে শুধু নিরামিষ খাবার বা ডিম আনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিরামিষ খাবার আনার নির্দেশ দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
তবে বহিষ্কারের সম্ভাবনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মনিদুল ইসলাম। তার বক্তব্য, কোনো শিশুকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। ভুল বোঝাবুঝি বা বিতর্কের কারণে পড়াশোনার পথ বন্ধ করে দেওয়া সমস্যার সমাধান হতে পারে না। বরং সম্প্রীতি বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা দরকার।
আসামে গরু ও গরুর মাংসকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজ্য সরকার প্রকাশ্য স্থানে গরুর মাংস খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে গোয়ালপাড়ার এ ঘটনাও দ্রুত রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।




