বিজয়ের উত্থান, স্ট্যালিনের পতন

বিজয় থালাপতি ও এমকে স্ট্যালিন
ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ে পেয়েছে দক্ষিণি সুপারস্টার বিজয় থালাপতির দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে)। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই তামিলনাড়ুর প্রায় ৪৯ বছরের রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। কারণ, ১৯৭৭ সালের পর আর কোনো চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি জনগণের ভোটে এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি।
অন্যদিকে, তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকের সভাপতি এম কে স্ট্যালিন পরাজিত হয়েছেন নিজের কোলাথুর আসনেই।
জানা গেছে, কোলাথুরে টিভিকের প্রার্থী এ এস বাবুর কাছে হেরে গেছেন স্ট্যালিন। একসময় ডিএমকেরই নেতা ছিলেন বাবু। স্ট্যালিনের ছেলে ও উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন চেপক আসনে জয় পেয়েছেন অল্প ব্যবধানে।
স্ট্যালিনের এই পরাজয় ডিএমকের জন্য যেমন বড় ধাক্কা। তেমনি মনে করিয়ে দেয় তার বাবা এম করুণানিধির বারবারের রাজনৈতিক দুর্ভাগ্যের স্মৃতি। তিনি ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে পরাজিত হয়েছিলেন জয়ললিতার কাছে। তবে পার্থক্য হলো, তার বাবা কখনোই নিজের বিধানসভার আসন হারাননি। স্ট্যালিন কেবল ক্ষমতাই হারাননি, হারিয়েছেন নিজের আসনও।
এক অর্থে, স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে জনগণের এ রায় স্পষ্ট ভোট। রাজবংশ ও পরিবারভিত্তিক রাজনীতি ছিল তার বাবা করুণানিধির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। আজ তা স্ট্যালিনের জন্য এক অভিশাপ।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিএমকের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলা। পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগ কাটিয়ে আদর্শে ফিরতে না পারলে দলটির ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হতে পারে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে তরুণ প্রার্থীদের কাছ থেকে। শ্রীরঙ্গমের রমেশসহ অনেক নতুন মুখ, যাদের নাম আগে ভোটারদের কাছে পরিচিত ছিল না, তারা হারিয়ে দিয়েছেন ডিএমকে ও এআইএডিএমকের অভিজ্ঞ নেতাদের।
এআইএডিএমকের নেতা এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী কিছু গ্রামীণঘাঁটি ধরে রাখতে পারলেও পিছিয়ে পড়েছেন ক্ষমতার লড়াইয়ে। দলটি এখন নেমে গেছে তৃতীয় অবস্থানে। যা প্রশ্ন তুলছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বার্তা হলো বয়স বা সামাজিক বিভাজনকে ছাপিয়ে ‘বিজয় ফ্যাক্টরের’ উত্থান। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপক প্রভাব দেখা গেছে। শহর ও গ্রামের ব্যবধানও অনেকটা মুছে গেছে। কারণ, টিভিকে চেন্নাইয়ের পাশাপাশি জয় পেয়েছে গ্রামীণ এলাকাতেও।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভোটে প্রভাব বিস্তারে অর্থের ব্যবহার এখানে তুলনামূলক কম ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে আগে টাকা দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার অভিযোগ ছিল সাধারণ ঘটনা, সেখানে বিজয়ের দল অনেকটাই স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের ওপর নির্ভর করেছে।
নির্বাচনের আগে বিজয় নানা চাপে ছিলেন। কারুরে পদদলিত হওয়ার ঘটনার পর প্রচারণা সীমিত হয়ে পড়ে তার। তার চলচ্চিত্র জনা নায়াগান আটকে যায় সেন্সর জটিলতায়। বিতর্ক তৈরি হয় ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও। তবে এসব বিষয়ই ভোটারদের সহানুভূতি এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এআইএডিএমকের জন্যও সামনে অনিশ্চয়তা। প্রায় ৪০ জন বিধায়ক নিয়ে তারা এখন মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে দলটির নেতৃত্ব ও কৌশল কী হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিনের ডিএমকে–এআইএডিএমকে দ্বন্দ্ব ভেঙে সামনে আসছে টিভিকে বনাম ডিএমকের নতুন সমীকরণ।
সূত্র: এনডিটিভি




