দিল্লিতে থামলেও ঝাড়খণ্ডে প্রবল বিক্ষোভে জেন জি
- রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থী লাগাতার অবস্থান-বিক্ষোভ
- স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে অনশনে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো

দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির নেতৃত্বে জাতীয় স্তরের ছাত্র আন্দোলন আপাতত থেমে গেলেও সেই প্রতিবাদের রেশ এবার আরও প্রবলভাবে ধরা পড়েছে ঝাড়খণ্ডে। সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থী লাগাতার অবস্থান-বিক্ষোভ এবং অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। ধীরেধীরে এই আন্দোলন ঝাড়খণ্ডের সীমানা পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সাড়া ফেলেছে।
আন্দোলনকারী ছাত্রদের অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, বিতর্কিত পরীক্ষাগুলি বাতিল করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে এমন নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে যাতে যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি নিশ্চিত হয়। আন্দোলনকারীদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি পরীক্ষার সঙ্গেই জড়িত নয়, লক্ষাধিক তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ এবং সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্গেও জড়িত।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো। তিনি কয়েকদিন ধরে আমরণ অনশনে রয়েছেন। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অন্ততপক্ষে পানি পান করার অনুরোধ জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেবেন্দ্র পানি খেলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে , দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর অনশন চলবে। তাঁর কথায়, 'এটি ব্যক্তিগত লড়াই নয়। হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ন্যায় বিচারের সংগ্রাম।' দিল্লির জন্তর মন্তরের আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টিও ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, স্বচ্ছ পরীক্ষা ও নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি দেশের তরুণ প্রজন্মের গণতান্ত্রিক অধিকার।
আন্দোলন আরও বিস্তৃত করতে আগামী কয়েক দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। ৬ আগস্ট ঝাড়খণ্ড ক্রান্তি মোর্চার মিছিল, ৭ আগস্ট বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ বিক্ষোভ এবং ১০ আগস্ট তিরঙ্গা মিছিলের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) সহ একাধিক সংগঠনও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। এছাড়া খুব শীঘ্রই ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে একটি টিম ঝাড়খণ্ডে রওনা দেবে বলেও অভিজিৎ দিপকে জানান।
এদিকে ছাত্রদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে সরকার যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন যে, অভিযোগের তদন্ত ইতিমধ্যেই রাজ্যের সিআইডির হাতে রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর সরকার আইন এবং সংবিধানের নিরিখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে বুধবার
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের দরজা সবার জন্য খোলা। যাদের দাবি রয়েছে তারা সরকারের কাছে এসে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন। সরকার তাদের উদ্বেগ ও দাবিগুলি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে গিয়ে সাব ডিভিশনাল অফিসার (এসডিও) এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আন্দোলনকারীদের হাতে আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রস্তাবপত্র তুলে দেন।
ধীরেধীরে আন্দোলনের প্রতি জনসমর্থনও বাড়ছে। বিভিন্ন শহর থেকে সাধারণ মানুষ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্দোলনস্থলে খাবার, পানীয় এবং অনান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার দাবিতে বহু মানুষ সরব হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তারা সংঘাত চাননা, জবাবদিহি চান। তাদের আশা সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। তবে ততদিন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ জারি থাকবে বলেই জানিয়েছেন তারা।




