অন্যধর্মে জমি কেনাবেচা ও ধর্মান্তর ঠেকাতে নতুন আইনের ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: আগামীর সময়
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জমি কেনাবেচা এবং ধর্মান্তর ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গে নতুন আইন আনার ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার বাঁকুড়ায় এক প্রশাসনিক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তার সরকারের সামনে এখনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। এর একটি ধর্মান্তর রোধে আইন প্রণয়ন, অন্যটি ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে আইন আনা।
তবে প্রস্তাবিত আইনের ধারা, খসড়া কিংবা কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি শুভেন্দু। প্রশাসনিক সভায় তিনি বলেছেন, ‘আর দুটো কাজ আমার বাকি। ধর্ম পরিবর্তন আর অন্যধর্মে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আইন আনা। এ কাজও আমি করছি।’
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ধর্মান্তর এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি লেনদেন— দুটি বিষয়েই পৃথক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে সরকার। যদিও এ ধরনের আইন আনার ঘোষণা এবারই প্রথম নয়।
এর আগে গত ২৬ জুন কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘ল্যান্ড জিহাদ’, ‘লাভ জিহাদ’ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর আইন কার্যকর করা হবে। একই অনুষ্ঠানে তিনি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি কার্যকরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।
বাঁকুড়ার সভায় নতুন করে আইন আনার ঘোষণা দেওয়ার পর প্রস্তাবিত বিধান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জমি বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতি বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিধি বা প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেশী আসামেও ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি লেনদেন নিয়ে নির্দিষ্ট সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। সেই ধরনের কোনো ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গেও চালু করা হবে কি না, তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
শুভেন্দুর ঘোষণার পর তাই মূল নজর এখন প্রস্তাবিত আইনের খসড়া ও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতির দিকে। সরকার ঠিক কী ধরনের বিধান আনতে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট হবে আইনটির বিস্তারিত প্রকাশের পরই।




