শুভেন্দু-শমিক-অগ্নিমিত্রা, কে হবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো জয় পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে বিজেপির ভেতরে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন শমিক ভট্টাচার্য এবং অগ্নিমিত্রা পাল।
সোমবার ঘোষিত ফলাফলে ২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন। ভবানীপুর আসনে মমতাকে পরাজিত করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় নেতাদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য তিনিই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী।
একজন সিনিয়র বিজেপি নেতা মন্তব্য করেন, মমতাকে দুবার পরাজিত করার কারণে অধিকারীকে পুরস্কৃত করা হতে পারে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং এবার ভবানীপুরে তিনি জয় পেয়েছেন। ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মমতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। দলীয় সূত্রের দাবি, এ কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।
২ এপ্রিল যখন অধিকারী ভবানীপুর আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন, তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার সঙ্গে ছিলেন। শাহ তখন বলেছিলেন, “গতবার মমতা জিতেছিলেন, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী তাকে হারিয়েছিলেন। এবার মমতা গোটা বাংলায় এবং ভবানীপুরে হেরে যাবেন।” সেটাই সত্য হয়েছে।
অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পালও আলোচনায় রয়েছেন। আসানসোল দক্ষিণ আসনে জয় পাওয়া এই নেত্রীকে সামনে আনার সম্ভাবনার কথাও বলছেন অনেকে। দল যদি নারী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে চায়, তাহলে তিনি শক্ত প্রার্থী হতে পারেন বলে মত রয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সদস্য এবং সংগঠনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিজেপি শিগগিরই কলকাতায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক ডাকতে পারে। সেখানে বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। একজন দলীয় নেতা উল্লেখ করেন, পর্যবেক্ষক নিয়োগের পরই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গত দুই মাসে শুভেন্দু গোটা রাজ্যে উচ্চপ্রোফাইল প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, বিজেপির উচিত বাংলার প্রায় ২৭% মুসলিম ভোটারদের উপেক্ষা করে ৭০.৫৪% হিন্দু ভোটারদের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
মুসলিম ভোটাররা অন্তত ১২০টি আসনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। ২০২১ সালে বিজেপি এদের মধ্যে মাত্র ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছিল। তাদের দেওয়া নয়জন মুসলিম প্রার্থীর মধ্যে কেউ জয়ী হননি। অধিকারী জানুয়ারিতে পূর্ব মেদিনীপুরে এক সভায় বলেছিলেন, “২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে আমরা ৩৮% ভোট পেয়েছি। এগুলো সব হিন্দু ভোট। যদি আরও ১০% হিন্দু আমাদের ভোট দেন, আমরা আগামী বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেব।”
মালদা, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, কলকাতা এবং বীরভূমের মতো মুসলিম অধ্যুষিত আসনেও জয় পেয়েছে বিজেপি।
এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত পড়ুন





