মোদির আশ্বাস-ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারেও মন গলেনি ককরোচদের
- সরকারের সঙ্গে বৈঠক করবে সিজেপি

যন্তর মন্তরে শুক্রবার সকালে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন অভিজিৎ দিপকে
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের আগে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন আনার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা কিংবা আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত—কোনোটিই তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনেনি। দলটি বলেছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা এখনো অনড়।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, দলের দাবিগুলো আগের মতোই বহাল রয়েছে এবং সেগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ‘উন্মুক্ত মন’ নিয়ে আলোচনায় আসবে এবং জনগণের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনবে।
দিল্লির কনস্টিটিউশনাল ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় আজ শুক্রবার সিজেপি নেতাদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সিজেপির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহার।
বৈঠকের আগে যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থলে সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বললেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমাদের বৈঠক একটি নিরপেক্ষ স্থানে হবে। তবে আমি আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছি।’
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সোনম ওয়াংচুক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আত্মহত্যাকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে রাজি করাতে পেরেছেন— এতে তারা সন্তুষ্ট। তবে তিনি বললেন, ‘আমরা এখনো লিখিত আশ্বাসের অপেক্ষায় আছি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই আন্দোলনের শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আমাদের প্রধান দাবি।’
সরকারের সঙ্গে বৈঠকের আগের রাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভিডিও বার্তায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন আনার প্রতিশ্রুতি দেন। একই রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে ২৬ দিনের অনশন ভাঙেন সোনম ওয়াংচুক।
ওয়াংচুক জানালেন, সরকার তাকে আশ্বাস দিয়েছে যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, আত্মহত্যাকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, ওয়াংচুক অনশন ভাঙায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন এবং দেশের ‘বিবেক জাগ্রত’ করার কৃতিত্ব তাকেই দেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বললেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’
প্রধানমন্ত্রী মোদির নতুন আইন আনার ঘোষণার বিষয়ে সৌরভ দাস সাংবাদিকদের বললেন, ‘মন্ত্রিসভা যা খুশি করতে পারে। এর সঙ্গে আমাদের দাবির কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের দাবিগুলো একই রয়েছে এবং সেগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
তিনি আরও বলেছেন, যন্তর-মন্তরে আসতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ প্রকাশ করায় মন্ত্রীদের জন্য বিকল্প বৈঠকের স্থান প্রস্তাব করেছিল সিজেপি। তার ভাষায়, ‘নিরাপত্তার কারণে মন্ত্রীরা যদি এখানে আসতে দ্বিধা করেন, আমরা তা বুঝি। তাই আমরা রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈঠকের বিকল্প স্থান হিসেবে প্রস্তাব করেছি।’




