আসাম থেকে বাংলাদেশে প্রথমবার পণ্য আসবে ব্রহ্মপুত্র হয়ে

ডিব্রুগড়ের বগিবিল অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণ টার্মিনাল— সংগৃহীত ছবি
আসামের ডিব্রুগড় থেকে প্রায় আট দশক পর প্রথমবারের মতো ব্রহ্মপুত্র নদের জলপথে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করবে ভারত। ডিব্রুগড়ের বগিবিল অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন টার্মিনাল থেকে দুটি কার্গো জাহাজে করে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হবে আসাম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের নামরূপ কারখানায় তৈরি মিথানল।
প্রথম দফায় দুটি জাহাজে মোট এক হাজার ৮০ টন মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে থাকবে ২৭টি কনটেইনার। প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল পরিবহন করা হবে।
বগিবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিতে সময় লাগতে পারে প্রায় সাত দিন। ব্রহ্মপুত্রকে ব্যবহার করে নতুন করে ডিব্রুগড় থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে সরাসরি পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ডিব্রুগড়ের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রপথে বাণিজ্যের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। ব্রিটিশ আমলে এই নদীপথ ছিল বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্গো জাহাজ ব্রহ্মপুত্র ধরে আসামের সঙ্গে অবিভক্ত ভারতের অন্যান্য অংশ এবং বিদেশের বাজারের যোগাযোগ বজায় রাখত। ১৯৪৭ সালের পর সেই জলপথনির্ভর বাণিজ্য ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় আট দশক পরে বগিবিলকে কেন্দ্র করে সেই পুরনো বাণিজ্যপথকে নতুন করে সক্রিয় করার চেষ্টা শুরু করছে ভারত।
বগিবিল টার্মিনালে বাণিজ্যিক পণ্য ওঠা-নামার জন্য এরই মধ্যে জেটি, কাস্টমস পরিকাঠামো এবং গুদামের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি বাতিঘর ও আঞ্চলিক উৎকর্ষ কেন্দ্র তৈরির কাজও চলছে।
আসাম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, আসাম সরকারের অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন দপ্তরের দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে গুয়াহাটিতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। পরে সেগুলো লিজ নিয়ে পান্ডু ঘাটে মেরামত করে এপিএল। সেই পরিকাঠামোকেই কাজে লাগিয়ে বগিবিল থেকে ঢাকায় মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডেকার মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে ব্রহ্মপুত্রপথে তুলনামূলক কম খরচে পণ্য পরিবহনের একটি কার্যকর বিকল্প তৈরি হতে পারে। বগিবিল টার্মিনাল নিয়মিতভাবে চালু হলে শুধু মিথানল নয়, আসামে উৎপাদিত আরও নানা পণ্য এই জলপথে বাংলাদেশ হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের পণ্য, পেট্রোলিয়ামজাত সামগ্রী, কয়লা এবং চা-শিল্পের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই জলপথ ব্যবহার করা যেতে পারে। স্থানীয় কৃষিপণ্যও এর আওতায় আসতে পারে। আসামের লেবু, ভুট জলকিয়া, গোলমরিচের মতো পণ্যের জন্যও নতুন বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিব্রুগড় একসময় আসামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। ব্রহ্মপুত্র ছিল সেই বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভরসা। বগিবিল থেকে ফের বাণিজ্যিক কার্গো চলাচল শুরু হলে নদীকে ঘিরে ডিব্রুগড়ের সেই পুরনো অর্থনৈতিক ভূমিকা নতুন করে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামে একটি জাহাজ এরই মধ্যে গুয়াহাটি থেকে বগিবিলে পৌঁছেছে। প্রথম দফার এই পণ্য পরিবহন সফল হলে ব্রহ্মপুত্রপথে ডিব্রুগড়ের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং তার মাধ্যমে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগের পথ খুলতে পারে।




