মেসি-কাণ্ডে স্বস্তি প্রাক্তন পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রী অরূপের

লিওনেল মেসির সাথে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতার সল্টলেক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির ইন্ডিয়া ট্যুর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চরম অব্যবস্থাপনা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে বিতর্কের মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে তাকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এই সুরক্ষা। তবে তার জন্য একাধিক শর্তও মানতে হবে অরূপকে।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে যে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে। পুলিশ কোনও নোটিস পাঠালে তা এড়ানো যাবে না। হাজিরার জন্য অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে তদন্তকারী সংস্থাকে। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না অরূপ। সাত দিনের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে জমা দিয়ে দিতে হবে নিজের পাসপোর্টও। যদিও অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং আইনি পথেই নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, ঘটনার সূত্রপাত হয় কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা নিয়ে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত অভিযোগ করেন, টিকিট বণ্টনে অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই পরিস্থিতি চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই অরূপ বিশ্বাস সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। এমনকি শুনানির সময় ঘটনার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালতও। বিচারপতি জানতে চান, দেশের অন্য শহরগুলিতে একই ধরনের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও কলকাতায় কেন বিশৃঙ্খলা তৈরি হল। এমনকি মেসির এত কাছে কেন গিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে আদালতে।
শতদ্রু দত্তের আইনজীবীর দাবি, প্রায় ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে ২২ হাজার টিকিট অরূপ বিশ্বাসের বিধানসভা এলাকার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিছু ক্লাবের কাছে সেই টিকিট বিক্রির অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে আদালতে।
এদিকে হাইকোর্ট বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটকে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে। কেন অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল এবং কোথায় প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখে চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। ফলে আইনি সুরক্ষা মিললেও তদন্তের নজর যে এখনও অরূপ বিশ্বাসের উপরেই রয়েছে, তা স্পষ্ট।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা অমিতাভ ভট্টাচার্যের মতে, আদালত রক্ষাকবচ দেওয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছে যে অভিযোগ উঠলেই অপরাধী বলা যায় না কাউকে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, মেসির মতো বিশ্বতারকার সফর ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার প্রকৃত কারণ সামনে আসা প্রয়োজন।




