পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন
তৃণমূলে ভোট দিলে যাচ্ছে বিজেপিতে!

পশ্চিমবঙ্গে চলছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। এরই মধ্যে বিজেপি-তৃণমূল করেছে অনিয়ম নিয়ে বেশ কিছু পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। তবে কারচুপির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ভোটকেন্দ্রে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রের ১৮৬ নম্বর বুথে ইভিএমে যে প্রার্থীকেই ভোট দেওয়া হোক না কেন, তা গিয়ে পড়ছে বিজেপি প্রার্থীর প্রতীকে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা এবং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় ভোটগ্রহণ।
যদিও বড়ঞার নির্বাচনী পর্যবেক্ষক উজ্জ্বল সিংহ অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের ঘটনা অসম্ভব। তবুও অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বর্তমানে সেখানে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে।’
বড়ঞা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা রজক দাবি করেন, ইভিএমের ৪ নম্বর বোতামে রয়েছে বিজেপি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক। তবে ভোটাররা যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে বোতাম চাপলেও তা বিজেপির প্রতীকে জমা হচ্ছে।
তিনি জানান, ভোট শুরুর আগে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষায় কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি। কিন্তু ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছু সময় পর থেকেই অভিযোগ করতে থাকেন ভোটাররা।
প্রতিমা রজকের ভাষ্য, ‘আমার নামের পাশে থাকা বোতামে চাপলেও ভিভিপ্যাটের স্লিপে দেখাচ্ছে ভোটটি বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে পড়েছে। আমাদের ধারণা, নেপথ্যে রয়েছে বড় কোনো চক্রান্ত।’
ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভ করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা। তারা ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করে দেখেন।
এদিকে, বড়ঞা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সুখেন কুমার বাগদি অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘হার নিশ্চিত জেনেই এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন প্রতিমা রজক। তিনি এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, নির্বাচন কমিশন তা প্রতিহত করেছে। যেকোনো বোতাম টিপলে বিজেপিতে ভোট যাচ্ছে— এ দাবি সম্পূর্ণ হাস্যকর।’
উল্লেখ্য, আজ সকাল ৭টা থেকে ভোট শুরু হয় রাজ্যের ১৬ জেলায়। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রথম ধাপে ভোট হচ্ছে ১৫২ আসনে। এতে ভোট দিচ্ছেন প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভোটার।
দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে ৬২.১৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে— ৬৫.৭৭ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে মালদহে— ৫৮.৪৫ শতাংশ।
দ্বিতীয় ও শেষ ধাপে ভোট ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ হবে ৪ মে।



