নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে তলব ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত এক নাবিক (বামে) এবং একটি ভারতীয় জাহাজ (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত
ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালির কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও জোরালো হচ্ছে। ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জেসন মিকসকে তলব করেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয়, কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ঘিরে। আক্রান্ত জাহাজগুলির মধ্যে ছিল ‘মাউন্ট সেত্তেবেলো’ ও ‘এমটি জলবীর’। জানা গিয়েছে, ওই জাহাজগুলিতে কর্মরত নাবিকদের বড় অংশই ভারতীয় ছিলেন। হামলার পর উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার পত্নালা সুরেশ, ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা এবং ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরান-সম্পর্কিত তেল পরিবহণের অভিযোগে একটি জাহাজের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল ওই জাহাজের বিরুদ্ধে। তবে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলপথে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা কোনও অবস্থাতেই বিঘ্নিত হওয়া উচিত নয়।
এই ঘটনার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য, বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট দৃঢ় নয় বলেও তিনি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিদেশ মন্ত্রক আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে সওয়াল করেছে এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের উপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিরোধীরা ঘটনাটিকে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরলেও শাসকপক্ষের দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে রাজনৈতিক তরজা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।




