সিজেপির ‘প্রধান গো ব্যাক’ কর্মসূচি জোরদার, অনশনের ঘোষণা ওয়াংচুকের

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করার ঘোষণা দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে গতকাল শুক্রবার জানিয়েছেন, আগামী রবিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে বৃহত্তর গণআন্দোলনের সূচনা করা হবে। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ‘থ্রি ইডিয়েটসখ্যাত’ পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ তথা বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে দীপকে বললেন, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনো কোনো দায় স্বীকার করেননি। তার অভিযোগ, এ ঘটনাগুলোর ফলে বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে জবাবদিহির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দীপকে আরও বললেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা দিল্লিতে এসে আন্দোলনে যোগ দেবেন বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সিজেপির পক্ষ থেকে ২০ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। সেই আন্দোলনকে আরও বড় আকার দেওয়ার লক্ষ্যে ‘প্রধান গো ব্যাক’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। দীপকে জানিয়েছেন, ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, কৃষক সংগঠন এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের রবিবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ছাত্রদের আত্মহত্যার জন্য সরকারের নৈতিক দায় রয়েছে। তার মতে, যখন শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে এত প্রশ্ন উঠছে, তখন একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে সোনম ওয়াংচুককে অনশনে বসতে বাধ্য হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
দীপকে আরও বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জবাবদিহি থাকা জরুরি। সরকারের কোনো মন্ত্রী ভুল বা ব্যর্থতার দায় নিচ্ছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি বললেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে সেই প্রশ্ন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দিকেও যাবে।
ছাত্রদের আত্মহত্যার ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছে সিজেপি। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে দীপকে বললেন, যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থককে হেনস্তা করা হয়েছে। এমনকি আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদেরও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলেও তার অভিযোগ।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসেরও একই অভিযোগ। এক স্বেচ্ছাসেবক গুরুতরভাবে আহত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারায় মামলা করা হয়নি। এদিকে, এই ইস্যুতে কংগ্রেসের সম্ভাব্য আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দীপকে বলেছেন, ছাত্রদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সব দলকেই একসঙ্গে সরব হওয়া উচিত।





