আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাব্য রোডম্যাপ

সংগৃহীত ছবি
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হওয়ার আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। ৪ জুলাই ভোর ৪টায় মায়ামিতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আলবিসেলেস্তেদের নকআউট পরীক্ষা। সমীকরণ বলছে, নক-আউটের কঠিন বাধা পেরোতে পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার পথটা আর্জেন্টিনার জন্য বেশ মসৃণ হতে পারে।
ফাইনালে যাওয়ার মিশনের প্রথম ধাপে আগামী শনিবার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। পুরুষ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউটে উঠে চমক দেখালেও শক্তির বিচারে লিওনেল স্কালোনির দলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে তারা। ফলে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকেই স্পষ্ট ফেভারিট ধরা হচ্ছে। কেপ ভার্দকে হারাতে পারলে শেষ ১৬ বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে মিশর অথবা অস্ট্রেলিয়া। ৮ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা যাদেরই পাক না কেন, নকআউটের চাপ সামলে সালাহদের মিশর বা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটা আর্জেন্টিনার জন্য খুব একটা অসম্ভব হওয়ার কথা নয়।
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ১২ জুলাই কানসাস সিটিতে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে সুইজারল্যান্ড, গ্রুপ ‘কে’-র চ্যাম্পিয়ন (পর্তুগাল বা কলম্বিয়া) অথবা গ্রুপ পর্বের অন্যতম সেরা একটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল। এই ধাপে পর্তুগাল বা কলম্বিয়ার মতো লাতিন শক্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ফ্রান্স বা স্পেনের মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিদের এই স্তরে এড়াতে পারাটা আর্জেন্টিনার ফাইনাল যাত্রার জন্য অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট। ফাইনালে ওঠার ঠিক আগের ধাপে আর্জেন্টিনার জন্য অপেক্ষা করতে পারে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় হাইভোল্টেজ ম্যাচ। ১৫ জুলাই আটলান্টায় সেমিফাইনালের মঞ্চে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল! তবে সেমিফাইনালে আসতে হলে ব্রাজিলকে পেরোতে হবে জাপান, নরওয়ে কিংবা মেক্সিকোর মতো বাধা। ব্রাজিল যদি তাদের বাধা পেরিয়ে আসতে পারে, তবে ফাইনালে যাওয়ার ঠিক আগের ধাপে ফুটবলবিশ্ব দেখবে এক ব্লকবাস্টার ‘সুপার ক্লাসিকো’। আর ব্রাজিল যদি কোনো কারণে অঘটনের শিকার হয়ে ছিটকে যায়, তবে আর্জেন্টিনার ফাইনালের পথ আরও সহজ হয়ে যাবে।
এই রোডম্যাপের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো¸আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ড্রয়ের যে প্রান্তে রয়েছে, তার ঠিক উল্টো প্রান্তে পড়েছে ইউরোপের সব জায়ান্ট দলগুলো। ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডস রয়েছে ব্র্যাকেটের অন্য প্রান্তে। অর্থাৎ, এই পরাশক্তিরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে একে অপরকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করবে। ফলে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ফ্রান্স বা স্পেনের মতো দলগুলো ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে না। সব ঠিক থাকলে আগামী ২০ জুলাই নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে দেখা যেতে পারে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে।






