ভারতে আবারও চাকরি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রদের আন্দোলন

সংগৃহীত ছবি
দিল্লির জন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করেও সমাধান না হওয়ায় সোমবার বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থী ও জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি অনুযায়ী, রাঁচির পুরনো বিধানসভা মাঠ থেকে নতুন বিধানসভা ভবন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করা হবে। টানা ১৭ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশনও করছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার এক বার্তায় বলেছেন, তাদের সংগঠন আন্দোলনকারীদের পাশে থাকবে। মুকেশ ও অক্ষয় শিন্ডের নেতৃত্বে দলের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে ঝাড়খণ্ডে পৌঁছেছে। আন্দোলন এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের স্নাতক স্তরের সম্মিলিত পরীক্ষা বাতিল করে পুরো ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্ত করতে হবে। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। তবে রবিবার সর্বশেষ বৈঠকও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের কথাও জানিয়েছে সরকার।
তবে সরকারের এই দাবি মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। তাদের বক্তব্য, মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অথচ তারা মোট ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। ফলে তাদের মূল দাবির সমাধান হয়নি।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো গত আট দিন ধরে আমরণ অনশনে রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি অনশন ভাঙেননি। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনকে ঘিরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই কমিশনের সদস্য অজিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা ও জামাল আহমেদ পদত্যাগ করেছেন। এর আগে চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেও পদ ছেড়েছেন।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গাংওয়ার আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।
বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে রাঁচিতে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। বিধানসভা চত্বরের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, সরকারি চাকরি তাদের কাছে শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বছরের পর বছর পরিশ্রম ও ভবিষ্যৎ। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দাবির স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।




