বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতই, স্পিকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল না হাইকোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদকে কেন্দ্র করে চলা রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে আপাতত স্বস্তি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেনি। ফলে আপাতত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকছেন ঋতব্রতই। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ২৮ জুলাই। তার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বড় ভাঙন দেখা দেয়। দলের বহু বিধায়ক বিদ্রোহী অবস্থান নেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অনান্য দলীয় নেতৃত্ব বিরোধী দলনেতা হিসেবে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনীত করলেও সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ। এরই মধ্যে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ১ জুন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তবে বহিষ্কারের পরও ৫৮ জন বিধায়কের (সংসদ সদস্য) সমর্থন নিয়ে তিনি বিরোধী দলনেতা পদে দাবি জানান। ওই বিধায়কেরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে তার প্রতি সমর্থন জানানোর পর স্পিকার রথীন্দ্র বসু ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
আর এদিন মামলার শুনানিতে শোভনদেবের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করার অধিকার রাজনৈতিক দলের। শুধুমাত্র বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এখানে চূড়ান্ত হতে পারে না। তার বক্তব্য, রাজনৈতিক দল এবং পরিষদীয় দল এক বিষয় নয়, দুটির সাংগঠনিক কাঠামো আলাদা।
অন্যদিকে ঋতব্রতের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী জয়দীপ কর বলেছেন, ৫৮ জন বিধায়ক প্রকাশ্যে ও সশরীরে ঋতব্রতের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই স্পিকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
আদালত আপাতত স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করায় ঋতব্রত শিবিরে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, এটা আমাদের নৈতিক জয়। আমরা যা করেছি, সম্পূর্ণ আইন মেনেই করেছি।




