ভূমিকম্প নয়, তবু ভারতে দুলছে কুয়োর জল!
- গুজরাটের গ্রামে রহস্য ঘিরে ভিড়
- তদন্তে বিশেষজ্ঞরা

প্রায় ১৮ ফুট গভীর এই কুয়োটি তৈরি হয়েছিল মাত্র তিনমাস আগেই।
ভারতের গুজরাটের মরবি জেলার একটি গ্রামের কুয়োর জল যেন নিজের ছন্দে দুলছে। কখনও একদিক থেকে অন্যদিকে ঢেউয়ের মতো ছুটে যাচ্ছে জল তো কখনও আবার কুয়োর কিনারা ছাপিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসছে। গত ২ আগস্ট থেকে এই অস্বাভাবিক বিস্ময়কর ঘটনাটিকে ঘিরে রীতিমতো রহস্য তৈরি হয়েছে বিরপর্দা গ্রামে। এদিকে এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ভিড় করছেন। রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা অনেকেই থেমে মোবাইলে ভিডিও করছেন।
কুয়োটি বিরপর্দা গ্রামের কৃষক প্রাণজীবন সাদারিয়ার জমিতে রয়েছে । প্রায় ১৮ ফুট গভীর এই কুয়োটি তৈরি হয়েছিল মাত্র তিনমাস আগেই। কুয়োর মালিকের দাবি, ২ আগস্ট রবিবার তিনি জমিতে গিয়ে প্রথম এই অস্বাভাবিক বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তার কথায় সেদিন কুয়োর জল কিনারা একেবারে ছাপিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসছিল। এরপরও অস্বাভাবিক নড়াচড়া বন্ধ হয়নি। রবিবার ও সোমবার জল এভাবেই দুলতে থাকে। মঙ্গলবার কিছু সময়ের জন্য জলের আন্দোলন থেমে গেলেও বুধবার ও বৃহস্পতিবার আবারও একইভাবে জল দুলতে শুরু করে।
তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় যে আশপাশে আরও দুই তিনটি কুয়ো রয়েছে। কিন্তু সেগুলির জল সম্পূর্ণ স্থির। ফলে স্থানীয়দের কৌতূহল আরও বেড়েছে। কেউ ঘটনাটিকে ‘অলৌকিক’ বলে মনে করছেন। আবার কেউ এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন। ভূমিকম্প আসন্ন কি না, তা নিয়েও প্রথম দিকে স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
তবে প্রশাসনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ভূমিকম্পের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি
মরবির জেলা ভূতত্ত্ববিদ জে এস ভাধের জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির জেরে ভূগর্ভস্থ জলস্তর দ্রুত পুনর্ভরাট হয়ে থাকতে পারে। সেই সময় ভূগর্ভস্থ শিলার ক্ষুদ্র ছিদ্র ও ফাঁকে আটকে থাকা বাতাস বেরিয়ে এসে কুয়োর জলে চাপ ও অস্বাভাবিক আন্দোলন তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে এটি একটি প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফল বলেই মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে গান্ধীনগরের ইনস্টিটিউট অব সিসমোলজিক্যাল রিসার্চের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে প্রশাসন। সেখান থেকেও এলাকায় কোনও সক্রিয় ফল্টলাইন বা ভূমিকম্প-সংক্রান্ত অস্বাভাবিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। মরবি জেলা কালেক্টর স্বপনিল খারে জানিয়েছেন, গুজরাট সরকারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং গান্ধীনগর থেকে একটি বৈজ্ঞানিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা করবে। তবে বিশেষজ্ঞদের এই প্রাথমিক ব্যাখ্যাই যে চূড়ান্ত তা এখনও বলা যাচ্ছে না। বিস্তারিত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কুয়োর জলের এই অদ্ভুত ‘দোলা’র প্রকৃত কারণ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।




