যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের আইনে বড় পরিবর্তন
- অপেক্ষা ৩ থেকে ৩০ বছর
- কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য বড় সুখবর

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিবাসীদের আয়, পেশা, দক্ষতা, যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পথ এবং দেশটির অর্থনীতিতে অবদানের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষা করতে হবে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর। তবে কেয়ার কর্মীদের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। আগের প্রস্তাবে ১৫ বছর অপেক্ষার কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে তারা পাঁচ বছরেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে অভিবাসীদের জন্য পাঁচ ধরনের অপেক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা বলছে, যেসব অভিবাসীর বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার ১৪১ পাউন্ডের বেশি এবং যারা অতিরিক্ত হারে আয়কর দেন, তারা তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। গ্লোবাল ট্যালেন্ট ও ইনোভেটর ফাউন্ডার ভিসাধারীরাও এ সুবিধা পাবেন।
বার্ষিক আয় ৫০ হাজার ২৭১ পাউন্ডের বেশি এবং উচ্চ হারে আয়কর প্রদানকারী অভিবাসীরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট দক্ষ সরকারি সেবা খাতের কর্মীরাও এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। সরকার অনুমোদিত নিরাপদ ও বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আসা শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও পাঁচ বছরের মেয়াদ প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত পাঁচ বছরের অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে ১০ বছর করা হচ্ছে। নির্ধারিত উচ্চ আয়ের শর্ত পূরণ করতে না পারা অধিকাংশ কর্মী এ নিয়মের আওতায় পড়বেন। বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে এসে পরবর্তী সময়ে আশ্রয় পাওয়া এবং বর্তমানে কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত কিছু শরণার্থীর ক্ষেত্রেও ১০ বছরের অপেক্ষার নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
কিছু অভিবাসীর স্থায়ী হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে ২০ বছর। যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট সরকারি ভাতা গ্রহণ, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন কিংবা আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশপথ ও কর্মসংস্থানের অবস্থার ভিত্তিতে এ সময় নির্ধারণ করা হবে। ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা শরণার্থীরা কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে ২০ বছরের মেয়াদ প্রযোজ্য হতে পারে।
তবে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা যেসব শরণার্থী কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত নন, তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে সর্বোচ্চ ৩০ বছর।
এদিকে নতুন ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন কেয়ার কর্মীরা। করোনা মহামারির সময় থেকে ২০২৫ সালের মে মাসের আগে কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসা কর্মীরা ভিসার শর্ত মেনে চললে এবং বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করলে পাঁচ বছরেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভুয়া স্পনসর প্রতিষ্ঠানের কারণে চাকরি না পেয়ে ভিসার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়া কর্মীদেরও দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ সুযোগ পেতে তাদের ১২০ দিনের মধ্যে বৈধ ও নিরাপদ চাকরির প্রস্তাব সংগ্রহ করতে হবে। তা না হলে যুক্তরাজ্য ছাড়তে হতে পারে।
তবে স্থায়ী হওয়ার অন্যান্য শর্ত আরও কঠোর করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের অপরাধমুক্ত রেকর্ড, এ-লেভেল সমমানের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, অন্তত তিন বছর জাতীয় বিমা ব্যবস্থায় (ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স) অবদানের রেকর্ড এবং সরকারের কাছে কোনো বকেয়া ঋণ না থাকার প্রমাণ দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, নতুন ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে যুক্তরাজ্যে এসে অবদান রাখা অভিবাসী এবং ব্রিটিশ নাগরিক, উভয়ের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর থেকে এ-সংক্রান্ত বিধি উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ২০২৭ সালজুড়ে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে চূড়ান্ত অভিবাসন বিধিমালা প্রকাশের পরই জানা যাবে, কোন নিয়ম কাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষার সময় কমানোর আগের প্রস্তাবটি সংশোধিত পরিকল্পনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।




