বিশ্লেষণ
ইরান যুদ্ধের ইতি, হাঁপ ছেড়ে বাঁচল তুরস্ক

প্রতীকী ছবি
ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানে হামলার নির্দেশ দিলেন, তখন হঠাতই নিজেদের কোণঠাসা আবিষ্কার করলেন তুরস্কের কর্মকর্তারা।
যুদ্ধ ঠেকাতে তাদের ক্রমাগত চেষ্টার ফল মেলেনি। আঙ্কারার মনোভাব ছিল, তাদের চেয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরামর্শকেই বেশি পছন্দ করছেন ট্রাম্প।
তিন মাস পর সেই পাকিস্তান ও কাতারের পাশাপাশি তুরস্কের ওপরও নির্ভর করতে হয়েছে ট্রাম্পকে। ইসরায়েলের প্রতি তার কণ্ঠ ক্রমশ হয়েছে কঠোর।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সই করা ভঙ্গুর সমঝোতা স্মারক শান্তির প্রথম পদক্ষেপ। একদিকে দুই দেশকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে একমত হতে হবে, অন্যদিকে সংঘর্ষের আরেক পক্ষ ইসরায়েল চাইবে সেটি ভেস্তে দিতে। শান্তির স্থায়িত্ব অনিশ্চিত হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার— এই সংঘাত থেকে তুরস্ক অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে এল।
যুদ্ধ শুরুর পর সরকারের স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল তুরস্ক। তবে সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি। প্রথমেই তারা ইরান থেকে সম্ভাব্য শরণার্থী ঢল ঠেকাতে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করে।
অন্যদিকে ইসরায়েলিরা পশ্চিম ইরানে সরকারবিরোধী বিদ্রোহের জন্য ইরানি কুর্দিদের ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছিল। তবে আঙ্কারার আশঙ্কা ছিল এই পরিকল্পনা কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে তুরস্কের শান্তি আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা তীব্র হওয়ার সাথে সাথে নেতানিয়াহুর মন্ত্রীসভার ভেতর থেকেও এই বাগাড়ম্বর জোরালো হচ্ছিল যে, ‘ইরানের পর পরবর্তী লক্ষ্য তুরস্ক’। আঙ্কারার আশঙ্কা ছিল ইরান সরকার পতন হলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের সীমান্ত নিরাপদ রাখতে ও কুর্দিদের ব্যবহার না করতে ট্রাম্পকে সম্মত করতে সক্ষম হয় তারা।
যুদ্ধের এক পর্যায়ে তুরস্কে চারটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার করা দুটি সামরিক ঘাটিতে হয়েছিল এই হামলা। এ ঘটনায় ক্ষোভ ঝাড়লেও উত্তেজনা বাড়ায়নি তুরস্ক। সেখানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোতে হামলা সীমাবদ্ধ রেখে তুরস্কের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয় ইরান।
নানা কারণে এই সংঘাতে তুরস্কের জড়িয়ে পড়ার যে আশঙ্কা ছিল, শেষ পর্যন্ত তা সত্য হয়নি। বরং এর ফলে ন্যাটোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত হয়েছে; অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। বিশেষ করে কাতার, কুয়েত এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সাথে শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের চুক্তি করে নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তুরস্ক।
‘বিনিয়োগের নিরাপদ স্থান’ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেমন নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিল, সেখানে ভাটা পড়েছে। ফলে বিকল্প হিসেবে নিজেদের সামনে এনেছে আঙ্কারা। আর এই যুদ্ধ জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।




