Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
ঔষধি গাছপ্রেমী আবদুল কাদের
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় বিদেশ

এই দিনে

লাইকা : মানুষের মহাকাশ জয়ে বলি হলো একটি কুকুর

আহসান হাবিব মারুফ
আহসান হাবিব মারুফ
agamir somoy
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:০২
শেয়ার করুন:
লাইকা : মানুষের মহাকাশ জয়ে বলি হলো একটি কুকুর

১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর মহাকাশযাত্রার আগে লাইক— সংগৃহীত ছবি

মানুষ তখনো মহাকাশে যাওয়ার সাহস করেনি। বিজ্ঞানীদের স্বপ্নের সীমানা ছিল পৃথিবীর কক্ষপথ। সেই স্বপ্নের পথে প্রথম জীবন্ত প্রাণী হিসেবে মহাকাশে পাঠানো হলো একটি পথকুকুরকে। নাম তার লাইকা।

১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুটনিক-২ মহাকাশযানে চড়ে কুকুরটি যখন পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছিল, সারা পৃথিবীর মানুষ তখন তাকিয়ে ছিল তার দিকে।
কিন্তু লাইকা জানত না, এই যাত্রাই হবে তার শেষ যাত্রা। পৃথিবীতে আর ফেরা হবে না তার। মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে সে হয়ে উঠেছিল এক নির্মম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার নীরব শিকার।

মহাকাশ প্রতিযোগিতার উত্তাল সময়

১৯৫০-এর দশক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত তখনো পৃথিবীর বুকে স্পষ্ট। বিশ্বরাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, স্নায়ুযুদ্ধ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, সব ক্ষেত্রেই একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় দুই পরাশক্তি। সেই প্রতিযোগিতার মঞ্চ হয়ে উঠল মহাকাশ।

১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ছোট্ট ধাতব গোলকটির চারপাশে ছিল চারটি অ্যানটেনা। পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সেটি বেতার সংকেত পাঠাচ্ছিল।পৃথিবীর কক্ষপথে যাত্রা করছে স্পুটনিক-২এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বকে চমকে দেয়। মহাকাশে মানুষের প্রবেশের পথ খুলে দেওয়ার পাশাপাশি শুরু হয় মহাকাশ আধিপত্যের প্রতিযোগিতা।
স্পুটনিক-১-এর সাফল্যের পর তৎকালীন সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ আরও বড় কিছু চাইলেন।

১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৯৫৭ সালের ৭ নভেম্বরের মধ্যে নতুন একটি মহাকাশ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। হাতে সময় ছিল খুব কম। দ্রুত তৈরি করা হলো দ্বিতীয় মহাকাশযান, স্পুটনিক-২। এবার আর শুধু যন্ত্র পাঠানো হবে না, সঙ্গে যাবে একটি জীবন্ত প্রাণী। সেই প্রাণীটি হবে একটি কুকুর।

মস্কোর রাস্তায় জন্ম, মহাকাশে যাত্রা

লাইকার জন্ম বর্তমান রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর রাস্তায়। ধারণা করা হয়, তখন তার বয়স ছিল প্রায় তিন বছর। দেখতে ছোটখাটো, স্বভাব শান্ত। সোভিয়েত মহাকাশ সংস্থা গবেষণার জন্য কুকুর বাছাইয়ের সময় এমন বৈশিষ্ট্যকেই গুরুত্ব দিয়েছিল। কারণ বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ছোট আকারের কুকুরকে মহাকাশযানের সীমিত জায়গায় রাখা সহজ হবে।

মহাকাশ অভিযানের জন্য পথকুকুর বেছে নেওয়ার পেছনেও ছিল বিশেষ কারণ। বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, রাস্তায় বেড়ে ওঠা কুকুর প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা অর্জন করে। ফলে নতুন পরিবেশে তাদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তুলনামূলক ভালো হতে পারে।

লাইকা একা ছিল না। মহাকাশ অভিযানের জন্য কয়েকটি কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। তাদের দীর্ঘ সময় ছোট খাঁচায় থাকতে হতো। কখনো কয়েক দিন, কখনো কয়েক সপ্তাহ। পরীক্ষা করা হতো বায়ুচাপের পরিবর্তন, উচ্চ শব্দ, কম্পন এবং সীমিত জায়গায় তাদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া।

শেষ পর্যন্ত লাইকার পাশাপাশি আলবিনা ও মুশকা নামের আরও দুটি কুকুরকে বিশেষভাবে বেছে নেওয়া হয়। আলবিনা ছিল বিকল্প প্রার্থী। মুশকাকে ব্যবহার করা হয়েছিল যন্ত্রপাতি ও জীবনধারণের ব্যবস্থা পরীক্ষার কাজে।

লাইকার আসল নাম ছিল কুদ্রিয়াভকা, যার অর্থ ছোট কোঁকড়ানো। পরে তার ঘেউ ঘেউ করার স্বভাবের কারণে নাম হয় লাইকা। রুশ ভাষায় লাইকা শব্দের অর্থ ঘেউ ঘেউ করে এমন কুকুর।মহাকাশযাত্রার আগে লাইকার শরীরে কয়েকটি সেন্সর বসানো হয়মহাকাশযাত্রার আগে তার শরীরে অস্ত্রোপচার করে কয়েকটি সেন্সর বসানো হয়। এগুলোর মাধ্যমে হৃদস্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাস, রক্তচাপ ও শরীরের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাকে পরানো হয়েছিল বিশেষ পোশাক। শরীরের সঙ্গে লাগানো হয়েছিল বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। সব মিলিয়ে মহাকাশযাত্রার জন্য লাইকার প্রস্তুতি ছিল বেশ কঠিন।

স্পুটনিক-২ উৎক্ষেপণের আগে তার পরিচর্যাকারী ভ্লাদিমির ইয়াজদভস্কি লাইকার প্রতি এক ধরনের মমতা অনুভব করেছিলেন। উৎক্ষেপণের কয়েক দিন আগে তিনি তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে স্মৃতিচারণায় জানান, কুকুরটির জন্য ভালো কিছু করতে চেয়েছিলেন তিনি। হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন, লাইকার সামনে কী অপেক্ষা করছে।

একমুখী যাত্রা

১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর। স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টা। কাজাখস্তানের বাইকোনুর উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে আকাশের দিকে ছুটে গেল স্পুটনিক-২। ভেতরে লাইকা। উৎক্ষেপণের সময় তার শরীরকে স্বাভাবিক অভিকর্ষের প্রায় পাঁচ গুণ শক্তির ধাক্কা সহ্য করতে হয়েছিল।

মহাকাশযান পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাল। লাইকা হয়ে উঠল পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করা প্রথম জীবন্ত প্রাণী। এর আগে মহাকাশে প্রাণী পাঠানোর পরীক্ষা হলেও কোনো প্রাণী পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি।

প্রায় ১০৩ মিনিটে একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছিল স্পুটনিক-২। মহাকাশযানের ভেতরে লাইকার হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। উৎক্ষেপণের ধকল সামলে সে কক্ষপথে পৌঁছেছিল ঠিকই, কিন্তু এরপরই শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়।

স্পুটনিক-২-এর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়। মহাকাশযানের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে। সীমিত জায়গায় বন্দী লাইকার জন্য পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অসহনীয়। মহাকাশযানের ভেতরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। কিছু নথিতে তা ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া যায়।

সময় যত গড়াচ্ছে, এ জন্য আমার অনুশোচনা তত বাড়ছে। আমাদের কাজটি করা উচিত হয়নি। একটি কুকুরের মৃত্যুকে ন্যায্যতা দেওয়ার মতো যথেষ্ট জ্ঞান আমরা এই অভিযান থেকে অর্জন করতে পারিনি

প্রাথমিকভাবে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, লাইকা কয়েক দিন মহাকাশে বেঁচে ছিল। এমনকি অভিযান শেষে তাকে বিষ মেশানো খাবার দিয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বলেও প্রচার করা হয়েছিল। কেউ কেউ ভেবেছিলেন, মহাকাশযান থেকে তাকে প্যারাসুটের সাহায্যে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

১৯৯৩ সালে লাইকার প্রশিক্ষক ও সোভিয়েত চিকিৎসক ওলেগ গাজেনকো জানান, উৎক্ষেপণের অল্প সময়ের মধ্যেই লাইকার মৃত্যু হয়েছিল। ২০০২ সালে রুশ মহাকাশ গবেষক দিমিত্রি মালাশেনকভের গবেষণায় মৃত্যুর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত গরমে উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাইকার মৃত্যু হয়েছিল বলে গবেষণায় উঠে আসে।

স্মিথসোনিয়ান এয়ার অ্যান্ড স্পেস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে ১৯৫৭ সালের ১০ নভেম্বরের একটি গোপন সরকারি চিঠির তথ্য তুলে ধরা হয়। চিঠিতে উল্লেখ ছিল, প্রথম কয়েকটি কক্ষপথে লাইকার শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক ছিল। তৃতীয় কক্ষপথে মহাকাশযানের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে প্রায় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। পরে তার শারীরিক অবস্থার সংকেত পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

এভাবেই মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় লাইকার জীবন। অথচ পৃথিবীর মানুষ তখনো তার প্রকৃত পরিণতি জানত না।

সত্য আড়াল, ইতিহাসে বিতর্ক

লাইকার মৃত্যুর খবর দীর্ঘদিন গোপন রেখেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। সরকারি প্রচারে বলা হয়েছিল, সে কয়েক দিন মহাকাশে বেঁচে ছিল। কোনো কোনো প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সে জীবিত ছিল। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণও প্রকাশ করা হয়নি।

এমনকি ১৯৫৭ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত স্পুটনিক-২ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাইকার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের সামনে প্রকৃত ঘটনা আসতে আরও কয়েক দশক লেগে যায়।লাইকার স্মরণে প্রকাশ করা পোস্টকার্ড২০০২ সালে রুশ গবেষকদের মাধ্যমে লাইকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশ্যে আসার পর মহাকাশ অভিযানের ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় আসে। ২০১১ সালে রাশিয়া আরও কিছু গোপন নথি প্রকাশ করে। এসব নথি থেকে স্পষ্ট হয়, অভিযানটির প্রস্তুতি ছিল তাড়াহুড়োর মধ্যে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ত্রুটি এবং মহাকাশযানের নানা সীমাবদ্ধতা লাইকার মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

লাইকার মৃত্যুর পরও স্পুটনিক-২ পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। এর ব্যাটারি প্রায় ছয় দিন কার্যকর ছিল। ১৯৫৮ সালের ১৪ এপ্রিল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর মহাকাশযানটি পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। সব মিলিয়ে এটি পৃথিবীকে প্রায় ২ হাজার ৫৭০ বার প্রদক্ষিণ করেছিল।

লাইকার পর মহাকাশে নতুন অধ্যায়

লাইকার অভিযান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মহাকাশ গবেষণায় এর গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। মহাকাশের পরিবেশে জীবন্ত প্রাণীর শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মানুষের মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতিতে এসব গবেষণা কাজে আসে।

১৯৬০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আবারও মহাকাশে কুকুর পাঠায়। এবার বেলকা ও স্ত্রেলকা নামের দুটি কুকুরকে স্পুটনিক-৫ মহাকাশযানে করে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হয়। তাদের সঙ্গে ছিল ইঁদুর, মাছি ও বিভিন্ন উদ্ভিদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তারা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছিল। মহাকাশে প্রাণী পাঠিয়ে জীবিত ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি ছিল বড় সাফল্য।

এরপর ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ভস্তক-১ মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীর কক্ষপথে যান ইউরি গ্যাগারিন। মহাকাশে যাওয়া প্রথম মানুষ হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। মানুষের মহাকাশযাত্রার এই সাফল্যের পেছনে ছিল লাইকার মতো প্রাণীদের ওপর পরিচালিত পরীক্ষার অবদান।

তবে লাইকার মৃত্যুকে ঘিরে নৈতিক প্রশ্নও কম ওঠেনি। তাকে মহাকাশে পাঠানোর সময় বিজ্ঞানীরা জানতেন, তাকে ফিরিয়ে আনার মতো প্রযুক্তি তখনো তৈরি হয়নি। অর্থাৎ শুরু থেকেই তার অভিযান ছিল একমুখী। পৃথিবীর নানা দেশে প্রাণী অধিকারকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে হয়েছিল কুকুর নিয়ে বিক্ষোভও।

ইতিহাসে থেকে যাওয়া এক নাম

লাইকা বেঁচে নেই। যে মহাকাশযানে চড়ে সে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছিল, সেটিও বহু আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে তার নাম মুছে যায়নি। সোভিয়েত ইউনিয়নে তার ছবি দিয়ে ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়েছিল। বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মারকে জায়গা পেয়েছে তার প্রতিকৃতি। মস্কোর স্টার সিটিতে তার স্মরণে রয়েছে স্মৃতিচিহ্ন।মস্কোর স্টার সিটিতে লাইকার স্মৃতিচিহ্ন১৯৫৭ সালের সেই নভেম্বরের সকালে লাইকা হয়তো বুঝতেই পারেনি, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার কাছে মহাকাশযাত্রা ছিল মানুষের তৈরি এক অচেনা পরিবেশে বন্দী হয়ে পড়া। অথচ পৃথিবীর মানুষের কাছে সে হয়ে উঠেছিল বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রার প্রতীক।

মানুষ আজ চাঁদে গেছে, মঙ্গলে রোবট পাঠিয়েছে, দূর মহাকাশে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। মহাকাশ গবেষণার সেই দীর্ঘ যাত্রায় অসংখ্য বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও নভোচারীর অবদান স্মরণ করা হয়। কিন্তু এই ইতিহাসের প্রথম দিকের এক নীরব অভিযাত্রীর কথা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।

লাইকা ছিল না কোনো বিজ্ঞানী, নভোচারী কিংবা অভিযাত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখা মানুষ। সে ছিল মস্কোর রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো একটি সাধারণ কুকুর। মানুষের মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন পূরণে তাকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তার মৃত্যু বিজ্ঞানকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই অর্জনের পেছনে ছিল একটি নিরপরাধ প্রাণীর অসহায় পরিণতি।

লাইকার মৃত্যুর কয়েক দশক পরও তার স্মৃতি তাড়া করে ফিরেছে এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের। ১৯৯৮ সালে এক সংবাদ সম্মেলনে লাইকার প্রশিক্ষণ ও মহাকাশ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী ওলেগ গাজেনকো নিজের অনুশোচনার কথা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সময় যত গড়াচ্ছে, এ জন্য আমার অনুশোচনা তত বাড়ছে। আমাদের কাজটি করা উচিত হয়নি। একটি কুকুরের মৃত্যুকে ন্যায্যতা দেওয়ার মতো যথেষ্ট জ্ঞান আমরা এই অভিযান থেকে অর্জন করতে পারিনি।’

তার এই স্বীকারোক্তিই যেন মহাকাশ জয়ের ইতিহাসে লাইকার করুণ পরিণতির এক দীর্ঘ বিলম্বিত স্বীকৃতি।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ইউরো নিউজ, নাসা, স্পেস ডটকম, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন

লাইকারাশিয়াস্পুটনিক ২মহাকাশযাত্রাকুকুর
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে হামলায় যুবক নিহত

    জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে হামলায় যুবক নিহত

    শ্যামলকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আততায়ীদের হাতে তুলে দেন বিশ্বস্ত মাঝি

    শ্যামলকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আততায়ীদের হাতে তুলে দেন বিশ্বস্ত মাঝি

    মাতিস রঙের সুন্দর

    মাতিস রঙের সুন্দর

    সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টের নতুন কমিটি

    সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টের নতুন কমিটি

    রহস্যজনক আজাদ পাটওয়ারীর সন্দেহজনক লেনদেন

    রহস্যজনক আজাদ পাটওয়ারীর সন্দেহজনক লেনদেন

    আফ্রিকার শহরে শিকড়ের সুর: বন্ধুত্বের ডাকে নাইরোবি শিল্পী গোষ্ঠীর অনন্য আয়োজন

    আফ্রিকার শহরে শিকড়ের সুর: বন্ধুত্বের ডাকে নাইরোবি শিল্পী গোষ্ঠীর অনন্য আয়োজন

    শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে কাজ করার প্রত্যয়

    শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে কাজ করার প্রত্যয়

    ২০২৭ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন, সরকারি ছুটি কত দিন?

    ২০২৭ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন, সরকারি ছুটি কত দিন?

    তথ্য চাওয়া হচ্ছে পুলিশের, বাদ পড়ছেন না স্কুলবন্ধুও

    তথ্য চাওয়া হচ্ছে পুলিশের, বাদ পড়ছেন না স্কুলবন্ধুও

    সবার আগে দরকার...

    সবার আগে দরকার...

    কিস্তি না দেওয়ায় গৃহবধূকে পুলিশে দিলেন এনজিওকর্মীরা

    কিস্তি না দেওয়ায় গৃহবধূকে পুলিশে দিলেন এনজিওকর্মীরা

    সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

    সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

    শ্রমিক অসন্তোষ : ইন্ধনের প্রশ্নে সরকার-বিরোধী দল উভয়ের এক সুর

    শ্রমিক অসন্তোষ : ইন্ধনের প্রশ্নে সরকার-বিরোধী দল উভয়ের এক সুর

    দরপত্র ছাড়াই স্কুলের নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে শিক্ষকদের আনন্দ ভ্রমণের অভিযোগ

    দরপত্র ছাড়াই স্কুলের নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে শিক্ষকদের আনন্দ ভ্রমণের অভিযোগ

    সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক তাজিম, সদস্য সচিব রাকিব

    সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক তাজিম, সদস্য সচিব রাকিব