গণমাধ্যমকে পাশ কাটাতে নিজেদের ‘সংবাদপত্র’ আনল রিফর্ম ইউকে
- ব্রিটেনের দেড় কোটি বাড়িতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা
- রাজনৈতিক প্রচারে নতুন কৌশল নাইজেল ফারাজের

সংবাদমাধ্যমের খবর পছন্দ হচ্ছে না? তা হলে নিজেরাই সংবাদপত্র বের করুন। ব্রিটেনের রাজনীতিতে সেই পথেই হাঁটলেন নাইজেল ফারাজ। সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় নিজের বিশাল ছবি। সঙ্গে দেশ বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। পাঠকের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর আয়োজন। ব্রিটিশ রাজনীতিতে এ যেন খবরের কাগজ দিয়েই নতুন রাজনৈতিক লড়াই। কিন্তু দলের প্রচার আর স্বাধীন সাংবাদিকতার সীমারেখা মুছে গেলে পাঠক সত্য খুঁজবেন কোথায়?
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্রিটেনের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে ‘দ্য রিফর্মার’ নামে আট পৃষ্ঠার বিনামূল্যের সংবাদপত্র প্রকাশ করেছে। প্রথম সংস্করণ দেড় কোটি মানুষের কাছে পাঠানোর দাবি করেছে দলটি। ভবিষ্যতে প্রতি মাসে নতুন সংখ্যা প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রথম পাতায় একটি কুকুরের সঙ্গে ফারাজের হাস্যোজ্জ্বল ছবি। শিরোনাম, ‘ভেঙে পড়া ব্রিটেনকে আমরা ঠিক করব।’ প্রথম সম্পাদকীয়তে ফারাজের অভিযোগ, প্রচলিত সংবাদমাধ্যম তাঁদের বক্তব্য বিকৃত করে।
তাঁর কথায়, ‘আমাদের কথা ও কাজ সংবাদমাধ্যম যেভাবে বিকৃত করে, তাতে আমরা বিরক্ত।’ তাই মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি মানুষের কাছে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে চান তিনি।
প্রথম সংখ্যায় রয়েছে অভিবাসন ঠেকাতে নৌবাহিনী ব্যবহারের বিতর্কিত পরিকল্পনা, স্থানীয় প্রশাসনে দলের কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রচার। সদস্য সংগ্রহের আবেদনপত্রও দেওয়া হয়েছে। সদস্য হলে বিনামূল্যে স্মারক মগ ও ব্যাজ দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
আগামী বছরের মে মাসে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতেও পাঠকদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। ওয়েস্টমিনস্টারে সপ্তাহের সাত দিন চালু থাকবে এমন সংবাদকক্ষ গড়ছে রিফর্ম ইউকে। নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ১২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। পাশাপাশি অনলাইন টেলিভিশন ও নিজস্ব সংবাদমাধ্যম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দলটির এই উদ্যোগ এমন সময়ে এল, যখন রাজনৈতিক অনুদান নিয়ে বিতর্ক ও বর্ণবাদসংক্রান্ত অভিযোগে চাপে রয়েছেন ফারাজ। গত সেপ্টেম্বরে দুই ধনকুবেরের কাছ থেকে রিফর্ম ইউকে ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড অনুদান পেয়েছে। ব্রিটিশ রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি রেকর্ড পরিমাণ অনুদান।
তবে প্রকাশিত প্রথম সংখ্যায় কোনো স্বতন্ত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নেই। প্রতিবেদকের নাম হিসেবে রয়েছে শুধু ফারাজের নাম। সংবাদপত্রের চেহারা থাকলেও প্রকাশনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
একসময় সংবাদমাধ্যম রাজনীতিকদের জবাবদিহি করাত। এখন রাজনীতিকেরাই নিজেদের সংবাদমাধ্যম গড়ে তুলছেন। প্রশ্ন তাই শুধু কে সংবাদ ছাপছেন, তা নয়। কোনটি সংবাদ আর কোনটি প্রচার, সেই সিদ্ধান্ত পাঠক নেবেন কীভাবে?



