যুক্তরাজ্যের উপনির্বাচন
জিতলেন কট্টর ডানপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজ, বিতর্ক কি থামবে?

রিফর্ম ইউকে পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের ক্ল্যাকটনের উপনির্বাচনে জয় পেয়েছেন কট্টর ডানপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজ। আজ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। যদিও কট্টর ডানপন্থি এ নেতা ভোট গণনা চলাকালেই নিজেকে জয়ী ঘোষণা করেছিলেন।
গতকাল স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হওয়া উপনির্বাচনে নাইজেল ফারাজ ভোট পেয়েছেন ৬৩ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ সহজ জয়ই পেয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে ফের পার্লামেন্টে ঢুকতে যাচ্ছেন ব্রেক্সিটের অন্যতম প্রধান মুখ ও রিফর্ম ইউকের নেতা ফারাজ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘কাউন্ট বিনফেস’ পেয়েছেন ২৬.৯ শতাংশ ভোট।
এই উপনির্বাচনের সূত্রপাত ফারাজের নিজের সিদ্ধান্তেই। জুলাইয়ের শুরুতে ক্ল্যাকটনের এমপি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই একই আসনে ফের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তার ভাষ্য, এই ভোট ‘জনগণ বনাম প্রতিষ্ঠান’-এর লড়াই। কিন্তু লেবার, কনজারভেটিভসহ ব্রিটেনের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনটিকে রাজনৈতিক কৌশল ও অপ্রয়োজনীয় আয়োজন আখ্যা দিয়ে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ফারাজের পদত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্ক। থাইল্যান্ডভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ী ও ধনকুবের ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে ২০২৪ সালে পাওয়া ৫০ লাখ পাউন্ডের একটি উপহার তিনি যথাযথভাবে ঘোষণা করেছিলেন কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার। ফারাজের দাবি, অর্থটি ছিল ব্যক্তিগত উপহার এবং তা ঘোষণার বাধ্যবাধকতা তার ছিল না। অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ব্যবহৃত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে ফারাজের জয়ের পরও তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিতর্ক থামবে বলে মনে হচ্ছে না। বিরোধীদের মন্তব্যে ইতোমধ্যে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।
লেবার পার্টির চেয়ারওম্যান ব্রিজেট ফিলিপসন বলেছেন, নাইজেল ফারাজের উপনির্বাচনের সাফল্য তার নামকে কলঙ্কমুক্ত করে না। ফিলিপসনের যুক্তি, তার আর্থিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ফারাজ পদত্যাগ করার পর তার বিরুদ্ধে সংসদীয় তদন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল। তবে তিনি আবার নির্বাচিত হওয়ায় তা ফের শুরু হতে পারে। তদন্তে সংসদীয় বিধি ভঙ্গের প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে; পরিস্থিতি এমন পর্যায়েও যেতে পারে যে ক্ল্যাকটনে আরও একটি উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে।







